পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দল তেহরিক–ই ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান বলেছেন, দাসত্ব মেনে নেয়ার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো। বুধবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
ইমরান খান বলেন, ‘তারা আমাদের দিয়ে যে দাসত্ব করাচ্ছে…। যেভাবে তারা গলা টিপে ধরছে এবং পিটিআই ছাড়তে বাধ্য করছে। তোমাদের জন্ম এসবের জন্য হয়নি। ভয়ের সামনে যখন কোনো জাতি নত হয়, তখন সে জাতির মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, তিনি আশা হারাবেন না। শেষ বল পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকবেন।
পাকিস্তানি জনগণের উদ্দেশ্যে ইমরান খান বলেন, ‘আমি আমার দেশের জনগণকে বলব, তোমাদের এমন পরাজয় মেনে নেয়া উচিত নয়।’ পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের জন্য প্রস্তুত হয়ে বসে আছি। যখন তারা আমার জন্য আসবে, আমি প্রস্তুত।
সুপ্রিম কোর্ট পাকিস্তানের শেষ ভরসা মন্তব্য করে ইমরান খান দেশের গণতন্ত্র বাঁচাতে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিনি কমিটি গঠন করতে প্রস্তুত।
পিটিআই প্রধান বলেন, যারা তাকে রাজনীতি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করছে তারা পাকিস্তানকে ধ্বংস করছে। তিনি বলেন, ‘তারা কি দেখতে পাচ্ছে না যে, কোনো রোডম্যাপ নেই, পাকিস্তান ডুবে যাচ্ছে।’
এদিকে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফকে (পিটিআই) নিষিদ্ধ করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। বুধবার (২৪ মে) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনকে এমন তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
ইসলামাবাদে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ পিটিআইকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বলেন, এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে অবশ্যই এ বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে।
তিনি বলেন, গত ৯ মে দেশজুড়ে সামরিক স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা একেবারে ‘পরিকল্পিত আক্রমণ’ ছিল। আর এ পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিলেন পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ইমরান খান।
পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অনেক প্রমাণ আছে এবং তাদের লোকজনও নিজেরা বলছে যে, এ বিষয়ে তাদের আগেই জানানো হয়েছিল। আমি মনে করি, এটা তার এক বছরের লড়াই… তার সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে এটা তার শেষ পদক্ষেপ।’