কন্নড় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা পুনীত রাজকুমার। ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর মাত্র ৪৬ বছর বয়সে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান পুনীত। অভিনেতাকে দ্রুত বেঙ্গালুরুর বিক্রম হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পুনীতের মৃত্যুর পাঁচ বছর পর তার জীবনের শেষ সময়ের ঘটনা তুলে ধরেছেন চিকিৎসক রমনা রাও। সম্প্রতি ‘জাস্ট কিউরিয়াস কন্নড়’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেদিনের ঘটনা স্মরণ করেন চিকিৎসক রমনা। তিনি জানান, মৃত্যুর দিন জিমে দেড় ঘণ্টা কিকবক্সিং করার পর চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়েছিলেন অভিনেতা। তার অতিরিক্ত ঘাম ও ক্লান্তি দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে ইসিজি করান চিকিৎসক। পরীক্ষায় হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপের লক্ষণ ধরা পড়েছিল। পুনীত রাজকুমার নাম হলেও আপ্পু নামে বেশি পরিচিত ছিলেন তিনি।
অভিনেতার সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানিয়ে চিকিৎসক রমনা রাও বলেন, ‘আপ্পু খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি আমার ছেলের মতো ছিলেন। আমার দ্বিতীয় ছেলের সঙ্গে তার ভালো বন্ধুত্ব ছিল। তারা প্রায়ই একসঙ্গে খেলতেন, খেলনা ভাগাভাগি করতেন।’ পুনীতের মৃত্যু তার চিকিৎসাজীবনের সবচেয়ে কষ্টকর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি বলেও উল্লেখ করেন রমনা রাও। তার কথায়, ‘জিমে প্রায় দেড় ঘণ্টা কিকবক্সিং করার পর তার চেম্বারে এসেছিলেন পুনীত। সেদিন প্রথমবারের মতো এই ব্যায়াম করেছিলেন অভিনেতা। তাকে দেখে অস্বাভাবিক ক্লান্ত মনে হচ্ছিল।’ রমনা রাও বলেন, ‘আমি চেম্বারে ছিলাম। আপ্পু যখন এলেন, তখন তার প্রচণ্ড ঘামছিল। তিনি খুব ক্লান্ত ছিলেন। তবে তাকে পরীক্ষা করার সময় বুঝতে পারি, বিষয়টি শুধু ক্লান্তির নয়। এত বেশি ঘাম দেখে আমার সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে ইসিজি করি। পরীক্ষায় হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপের লক্ষণ দেখা যায়।’ চিকিৎসক জানান, পরীক্ষার ফল দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেন তিনি।
পুনীতকে ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তার ভাষ্য, ‘এটি হার্ট অ্যাটাক ছিল না, বরং হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপের লক্ষণ ছিল। আমার মনে হয়েছিল, কিছু একটা ঘটতে পারে। তাকে ওষুধ দিই এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি।’ পুনীত নিজের গাড়িতে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। তখনো তিনি কথা বলছিলেন এবং গাড়িতে সোজা হয়ে বসতে চাইছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক তাকে বিশ্রাম নিতে বলেন। অভিনেতার স্ত্রী অশ্বিনীর কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকার অনুরোধ করেন তিনি। গাড়িচালককে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর নির্দেশও দেওয়া হয়। চিকিৎসক রমনা রাও জানান, হাসপাতালে যাওয়ার পথে পুনীত সচেতন ছিলেন এবং আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর ঠিক আগমুহূর্তে তার অবস্থার অবনতি হয়। চিকিৎসক বলেন, ‘হাসপাতালে পৌঁছানোর এক মিনিট আগে তার হৃদ্স্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আর হৃদ্স্পন্দন পাওয়া যায়নি। বিক্রম হাসপাতালের চিকিৎসকেরা পুনীতকে বাঁচাতে জরুরি চিকিৎসা দেন। তবে তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।’



