ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে গতকাল জোট ইন্ডিয়ার ডাকে লাখো মানুষ সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নিয়েছে। এদিকে পুলিশ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ–সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভিন্ন তিনটি জায়গায় কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেছে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জন্য দিল্লি পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারিখ ও সময় নির্ধারণ না করলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচি অনুযায়ী, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গতকাল সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা ছিল। কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এ কর্মসূচি শুরু হয়। একটি বাসে উঠে পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং বামপন্থি ছাত্রনেতা নেহা বোরারা। বাসের পিছনে হাজার হাজার মানুষের মিছিল এগোতে থাকে। তবে তাঁদেরকে ভগবান দাস মার্গের কাছে আধাসেনার জওয়ানেরা আটকে দেয়। একপর্যায়ে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাহুল গান্ধীকে একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করতে দেওয়া হয়। সেখান থেকে বেরিয়ে রাহুল গান্ধী সমবেত বিক্ষোভকারীদের সামনে বলেন, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন, সংবিধান সুরক্ষা এবং নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদবসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে নিয়ে ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পদত্যাগ করুন, রাজসাক্ষী হয়ে যান। আপনি ভুল করেছেন, কিন্তু এই ভুলের মূল পরিকল্পনাকারী আপনি নন।’ সিইসি জ্ঞানেশ কুমার অভিযোগের চাপে রয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, জ্ঞানেশ কুমার রাতে ঘুমাতে পারছেন না। আমি তাকে সরাসরি বলছি, আপনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে টিকে থাকতে পারবেন না।’
যন্ত্রর মন্ত্ররে বিক্ষোভ–সমাবেশ নিষিদ্ধ : গতকাল পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নাগরিকদের বিক্ষোভ–সমাবেশের অধিকার প্রয়োগের জন্য বিদ্যমান নির্ধারিত স্থানের বদলে উপযুক্ত বিকল্প স্থান খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে বাতিল করা হয়েছে। বিক্ষোভ ও সমাবেশ আয়োজনের জন্য নতুন স্থান হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং শাহদরার সিবিডি গ্রাউন্ডকে নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে গতকালই পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাশ। তারা পুলিশের কাছে বিক্ষোভের তারিখ নির্ধারণের অনুরোধ জানান। এরপর থানার বাইরে এসে সাংবাদিকদের জানান, পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনুমতি না পেলে তারা আবারও বিক্ষোভের নতুন কর্মসূচির ডাক দেবেন। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে।



