শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়লে যান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশে যান চলাচল বন্ধ করা হয়। দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা–বাইপাস সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ আসলাম আলী। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বি ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও পিচের স্তর উঠে গেছে, আবার কোথাও মাটি সরে গিয়ে সড়কের পৃষ্ঠ অসমান হয়ে পড়েছে। এতে ওই অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত মেরামত করা না হলে বৃষ্টির পানি ও ভারী যানবাহনের চাপে ফাটল আরও বিস্তৃত হতে পারে। সড়কের এমন পরিস্থিতিতে নির্মাণ কাজের মান, মাটির স্থিতিশীলতা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সড়কের পাশের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে ব্যবহৃত খোয়া ও বিটুমিনের মান নিয়ে অসন্তোষ ছিল। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে মাটি কাটার কারণে কোথাও কোথাও বড় গর্ত ও জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
এসব বিষয় সড়ক দেবে যাওয়ার ঘটনায় ভূমিকা রেখেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, রাস্তা নির্মাণের সময় আমরা নিজের চোখে কাজের মান দেখেছি। খোয়া ও বিটুমিনের মান নিয়ে তখনই অসন্তোষ ছিল। এক বছরও পার হয়নি, এর মধ্যেই রাস্তা ফেটে দেবে গেছে। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। নির্মাণকাজে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, রাস্তা নির্মাণের সময় সড়কের দুই পাশে মাটি কেটে গর্ত তৈরি করা হয়েছে। তার অভিযোগ, রাতের আঁধারে আশপাশের জমির মাটি কেটে কোথাও কোথাও কৃত্রিম পুকুর তৈরি করা হয়েছে। পর্যাপ্ত গাইডওয়াল বা সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় মাটি সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে তার আশঙ্কা। সড়ক দেবে যাওয়ার প্রকৃত কারণও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ জন্য প্রকৌশলগত পরীক্ষা ও সরেজমিন তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা–বাইপাস এশিয়ান হাইওয়ের গুরুত্বপূর্ণ এ অংশে যান চলাচল বন্ধ থাকায় এ সড়কে যানবাহন চলাচল ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। আটকা পড়া যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা পড়েছেন দুর্ভোগে। পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসা–বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিকল্প পথে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সড়ক দেবে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ আসলাম আলী বলেন, টানা দুই থেকে তিন দিনের বৃষ্টিতে সড়কের ঢাকা অংশের মাটি নরম হয়ে পড়ে। এরপর ওই অংশ দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় নরম মাটি নিচ থেকে সরে যায়। এতে সড়কের কয়েকটি স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয় এবং কিছু অংশ দেবে যায়। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সরকারি–বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় পরিচালিত ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ডাইভারশন সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেখানে মাটি সরে গেছে, সেখানে ড্রিল করে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ করা হবে।



