সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর ছাড়া বাকি পাঁচ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে আক্রান্ত রোগী এবং এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থল বেশি পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল বুধবার সংসদের বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান। ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন অভিযান–২০২৬’ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর প্রতি শনিবার সারাদেশে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশে পানি জমতে পারে এমন জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সবাইকে যুক্ত হতে হবে। ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন এলাকার উপজেলা হাসপাতালগুলোতেও বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে অন্তত পাঁচটি শয্যা আলাদা করে প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন পর্যাপ্ত রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের মশারির মধ্যে রাখার ব্যবস্থাও করা হবে। আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশা যেন অন্য কাউকে কামড়ে নতুন করে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে, সে জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে আগামী তিন মাসে রোগীর সংখ্যা এখনকার তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।



