জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে যাওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো টেলিফোনে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেন। দ্য ওয়ালের নির্বাহী সম্পাদক অমল সরকারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা জানান, তাঁর অনুপস্থিতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন সভাপতিমণ্ডলীর সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র মোস্ট) সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। পাশাপাশি ছোট বোন শেখ রেহানার সক্রিয় রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা নাকচ করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁর অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দেশে ফিরতে চান কিনা– সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাকে কেন দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না?’ একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি ফিরলে বিমানবন্দরেই আমাকে হত্যা করতে পারে।’ শুধু নিজের জীবনের ঝুঁকি নয়; তাঁর দেশে ফেরার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।’ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, বাংলাদেশে ‘জঙ্গিবাদী শক্তি’র উত্থান ঘটছে এবং এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।’ সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়েও সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দরকষাকষি আসলে নিজের দেশকেই খাটো করা।’ বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে ভারতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তিনি বলেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারতের অবস্থান নিয়ে সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। বাংলাদেশের সরকার ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দিলে কীভাবে দেশে ফেরা সম্ভব– এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, ‘তারা (বাংলাদেশ সরকার) ভারত সরকারের কাছে চাচ্ছে আমাকে ফেরত দেওয়ার জন্য। যখন ফেরত দেওয়ার কথা বলছে তখন ফেরত কেন, আমি নিজেই যাব। সে জন্যই বলেছি, আমি চলে যাব।’ দেশে ফেরার অনুমতি না পেলে অন্য কোনোভাবে কি প্রবেশ করবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



