ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৫০ কিলোমিটার এলাকায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ক্যামেরার নজরদারি শুরু হতেই ধরা পড়ছে একের পর এক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের চিত্র। চালু হওয়ার মাত্র সাত ঘণ্টায় এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ৪২৯টি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এআই ক্যামেরায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা শনাক্ত করে এ সব মামলা করা হয়। আজ বুধবার হাইওয়ের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক এআই ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে এক হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা। এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে।
অতিরিক্ত গতি, নির্ধারিত লেন না মানা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, উল্টো পথে চলাচল ও অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বরে পাঠানো হচ্ছে মামলা সংক্রান্ত বার্তা। চালু হওয়ার ৭ ঘণ্টায় এআই ক্যামেরার মাধ্যমে মোট ৪২৯টি মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে হাইওয়ের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, এখন থেকে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে যানবাহন চালানোসহ অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ক্ষেত্রে চালকরা ট্রাফিক আইন মেনে চলবে। এতে মহাসড়কে বাড়বে শৃঙ্খলা, কমবে দুর্ঘটনাও। মূলত মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। এরআগে গত শনিবার হাইওয়ে পুলিশ সদর দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৮ আগস্ট থেকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম (ওভারস্পিড), অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে যানবাহন চালানোসহ অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যবস্থার আওতায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এআই ক্যামেরার মাধ্যমে আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মামলা দেওয়া হবে। এরপর যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইলে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে। মামলার তথ্য পাওয়ার পর আইন অমান্যকারী যানবাহনের মালিকরা নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতিতে (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে গতকাল থেকে এআই ক্যামেরার নজরদারি শুরু হলো।



