রাজধানীর বাজারে মাছ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতা। দেশি মাছের দাম আকাশছোঁয়া, যেন তা এখন অনেকের কাছেই বিলাসিতা। চাষের মাছের দামও বেড়েছে। মাছের খাবার, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ায় বাজারে প্রায় সব ধরনের মাছই বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই পছন্দের মাছ বাদ দিয়ে তুলনামূলক কম দামের পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দিকে ঝুঁকছেন। বিক্রেতারা বলছেন, নদী, খালবিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে আগের মতো দেশি মাছ পাওয়া যায় না। প্রাকৃতিক উৎস থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আড়তে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে দূরদূরান্ত থেকে মাছ পরিবহনের খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে চাষের মাছ উৎপাদনেও খাবার ও অন্যান্য ব্যয় বেড়েছে। এসব কারণে মাছের বাজারে দামের চাপ তৈরি হয়েছে। গতকাল রাজধানীর মিরপুর–১১ ও মুসলিম কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পাবদা ৫০০–৬০০, টেংরা ৬০০–৬৫০, পুঁটি ৬০০–৬৫০, শিং ও মাগুর ৭০০–৭৫০, শোল ৭০০–৮০০, বোয়াল মানভেদে ৮০০–১১০০, টাকি ৫০০–৫৫০ এবং চিতল ৭০০–৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকি মাছের দামও ৫০০–৫৫০ টাকা কেজি।
বিভিন্ন জাতের চিংড়ি ৬৫০–৮৫০ টাকা কেজি। আকার ও মানভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২০০–২২০০ টাকা পর্যন্ত। চাষের মাছের মধ্যে রুই ও কাতলা ৩০০–৩৫০, পাঙাশ ২০০–২২০, চাষের কই ২৫০ এবং তেলাপিয়া ১৮০–২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, মাছের পাশাপাশি সবজি, মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বাড়তি। ফলে সংসারের খরচ সামলাতে খাবারের তালিকায় মাছের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে। অনেকে দেশি মাছের দিকে তাকাচ্ছেনই না। সামর্থ্য অনুযায়ী পাঙাশ, তেলাপিয়া বা অন্য কম দামের মাছ কিনেই ফিরছেন। এদিকে মাছের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চাল, ডাল, সবজি, মুরগি ও ডিমের দামও বাড়তি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নাজিরশাইল চাল ৮৫–৯০, পাইজাম ৫৮–৬৫, স্বর্ণা ও চায়না ইরি ৫৫–৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেটের বিভিন্ন ব্র্যান্ড ৮০–৯৫ এবং খোলা সুগন্ধি চাল ১৮০–২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির মধ্যে পটোল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৭০–৮০, বেগুন ৯০–১০০, বরবটি ১২০, করলা ও কাঁকরোল ৭০–৮০ এবং আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম ২০০–২২০ টাকা কেজি। চিকন মসুর ডাল ১৬০, মোটা মসুর ৯০–১০০ এবং মাষকলাই ডাল ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির মধ্যে ব্রয়লার ১৯০–২০০, সোনালি ৩২০–৩৪০, লাল লেয়ার ৩৭০ এবং দেশি মুরগি ৬৮০–৭০০ টাকা কেজি। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫০–১৫৫, সাদা ১৪০ এবং হাঁসের ডিম ২২০–২৩০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।



