ইতিহাস তার নিজের পথেই হাঁটল। হাজার চেষ্টা করেও নরওয়ের বিপক্ষে নতুন করে ইতিহাস লিখতে পারল না ব্রাজিল। উল্টো ইতিহাসকে আরও বেশি সোনালি আলোয় উজ্জ্বল করল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নরওয়ে। ব্রাজিলকে টানা ছয়টি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই বিদায় করে দেওয়ার নতুন নায়ক আর্লিং হলান্ড। অবিশ্বাস্যভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে তিনি একে একে দুটি পেড়েক ঠুঁকে দেন ব্রাজিলের কফিনে। যদিও ভাগ্য সহায়তা ছিল না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারাইসের পেনাল্টি মিসের খেসারত দিয়েছে ২–১ গোলে হেরে। হলান্ডের উজ্জ্বল দিনে নিজের জাত চিনিয়েছেন নেইমার। দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের পর মাঠে নেমে পেনাল্টিতে সেলেসাওদের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার শেষ করেন ওই গোলেই। হলান্ডের জোড়া গোলে অবিশ্বাস্য জয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে অপরাজিত থেকেই নরওয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল। বিপরীতে ব্রাজিল ২০০২ সালের পর টানা ছয় বিশ্বকাপে একরাশ হতাশা নিয়েই বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। জোড়া গোল করে হলান্ড এখন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের পাশে। তিন তারকার গোলই ৭টি করে। ম্যাচ শেষে নেইমার কাঁদছেন। উল্লাস করছেন হলান্ড।
নিউজার্সির চিত্র ছিল ম্যাচ শেষে। বিশ্বের ৮৭ দেশের বিপক্ষে জয়ের রেকর্ডস রয়েছে ব্রাজিলের। অথচ নিউজার্সির ম্যাচটির আগে নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের কোনো রেকর্ড ছিল না সেলেসাওদের। সেই রেকর্ডটিই অক্ষুণ্ন রাখল ভাইকিংসরা। ছয়বার মুখোমুখির তিনটিতেই জিতেছে নরওয়ে। গতকালের ম্যাচে আরও একটি পরিসংখ্যান বিপক্ষে ছিল ব্রাজিলের। ২০০২ সালে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের আসরগুলো থেকে ছিটকে পড়ে ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে হেরে। এবারও বাদ পড়েছে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ নরওয়ের কাছে হেরে। ভাইকিংসরা এর আগে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে সেলেসাওদের গ্রুপ পর্বে হারিয়েছিল ২–১ গোলে। দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৬ সালে। ২০ বছর আগের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১–১ গোলে।
গতকাল ম্যাচের ৩টি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। হলান্ড প্রথম গোলটি হেডে করেন ৭৯ মিনিটে। দ্বিতীয়টি বাঁ পায়ের মাটি কামরানো শটে ৯০ মিনিটে। নেইমার এক গোল শোধ করেন ৯৪ মিনিটে। পরিসংখ্যানের হাজার মণ চাপ নিয়ে খেলেছেন মার্কিনিয়োস, ভিনিসাসরা। সেই চাপে বেসামাল ফুটবল খেলে খেসারত গুনতে বসেছিল চতুর্থ মিনিটে। এলোমেলো রক্ষণভাগের সুযোগে নরওয়ে গোল করে বসে। কিন্তু লাইন্সম্যান অফসাইড ফ্লাগ তুলে বাঁচিয়ে দেন সেলেসাওদের। এরপরই নিজেদের খুঁজে পায় ব্রাজিল। ১১ মিনিট চমৎকার পাসিং ফুটবলে একটি পেনাল্টি আদায় করে নেয় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বল নিয়ে নরওয়ের রক্ষণভাগের শেষজনকে কাটিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়েন কুুনহা, তখনই পেছন থেকে স্লাইডিংয়ে তাকে ফেলে দেন ভাইকিংস রক্ষণভাগের ক্রিস্টোফার আয়ের। রেফারি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কুনহার আবেদনে ভিআর দেখে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। ১৪ মিনিটে ব্রুনো ম্যাগালাইস শট নিয়ে গোল করতে পারেননি। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন। গোলশূন্য শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে ব্রাজিল। একাধিক পরিবর্তন আনে। মাঠে নামার পরের মিনিট অবিশ্বাস্য মিস করেন ১৯ বছর বয়স্ক এনড্রিক। ৬০ মিনিটে ভিনিসাসের ডিফেন্সচেড়া বল ধরেও আগুয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি এনড্রিক। দুই মিনিট পরও আবারও নরওয়েকে বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক নিল্যান্ড। দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের পর মাঠে নামেন নেইমার। কিন্তু দলের অতীত রেকর্ড ভাঙতে পারেননি।



