সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের ফাঁদে গুরুতর আহত হওয়া রয়েল বেঙ্গল টাইগারটি তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরছে। চলতি মাসের শেষ দিকে বা জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের গহিন বনে তাকে অবমুক্ত করা হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাঘটির বয়স প্রায় ১০ বছর। গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল সংলগ্ন গহিন বনে ছিটকা ফাঁদে সে আটকা পড়ে। আটকে পড়ার এক দিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় দেখা যায়, সামনের বাঁ পায়ে তিন ইঞ্চির মতো জায়গায় চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছিটকা ফাঁদের রশিতে টানাটানির কারণে ক্ষত হয়ে পচন ধরে গিয়েছিল। উদ্ধারের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় পায়ের ক্ষত ধীরে ধীরে শুকাতে থাকে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি পুনর্বাসন কেন্দ্রে গিয়ে বাঘিনিটির পায়ের ক্ষত স্থান ভরাট হয়ে লোম গজানো অবস্থায় দেখেছি। সুন্দরবনের বাঘ প্রজনন মৌসুম ছাড়া সারা বছরই একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে একাই বসবাস করে। এখন সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা বাঘিনিটিকে তার চিরচেনা নিজস্ব আবাসস্থলে ছেড়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাঘটি শিকার করে খেতে পারে কি না তা জানতে গলায় স্যাটেলাইট কলার লাগিয়ে তাকে আবার শরকির খাল সংলগ্ন গহিন অরণ্যেই ছেড়ে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন–এর দেওয়া স্যাটেলাইট কলার চলতি সপ্তাহের মধ্যে বন বিভাগের হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, দীর্ঘ চিকিৎসার পর বাঘিনিটি আগের স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। ওজন বাড়ার পাশাপাশি ক্ষিপ্রতাও বেড়েছে। একই সঙ্গে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য স্যাটেলাইট কলার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্যাটেলাইট কলারটি নির্দিষ্ট সময় পরে গলা থেকে খুলে পড়ে যাবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এম এ আজিজ জানান, সুন্দরবনের একটি বাঘ ১৪ থেকে ১৫ বছর বেঁচে থাকে। উদ্ধার করা বাঘিনিটির বয়স প্রায় ১০ বছর। তাকে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়েছে।



