রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বসানো সিসি ক্যামেরা। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মহাসড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রী সাধারণ। মহাসড়কের পাশে বড় বড় খুঁটি ও স্ট্যান্ডে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে লাগানো অনেক সিসি ক্যামেরায় এখন অচল। সিসি ক্যামেরাগুলোও ভেঙ্গে ঝুলে আছে, না হয় খুঁটি ভেঙ্গে কাত হয়ে আছে অথবা উল্টো হয়ে আছে। মেশিনগুলোর বক্স থাকলেও নেই ভেতরের কোনো যন্ত্রাংশ। এদিকে হাইওয়ে পুলিশ বলছে, নষ্ট এসব ক্যামেরা সচল করতে কাজ চলমান আছে। জানা যায়, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয় জননিরাপত্তা নিশ্চিতসহ অপরাধ প্রতিরোধ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনার কারণ শনাক্ত করার জন্য। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সড়কের পরিস্থিতি সরাসরি নজরদারি করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে। অপরাধী শনাক্ত করা এবং ঘটনার সঠিক প্রমাণ সংগ্রহের জন্য সিসি ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ক্যামেরা নষ্ট হওয়ায় জননিরাপত্তা, অপরাধ দমন ও মহাসড়ক সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির অভাবে মহাসড়কে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও সড়ক দুর্ঘটনার মতো ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছে চালক ও যাত্রী সাধারণ। স্থানীয়ভাবে আরো জানা যায়, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্থাপন করা অনেক ক্যামেরা নষ্ট হয়ে পড়েছে, যা জননিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।
সিসি ক্যামেরা অপরাধ প্রতিরোধ, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। কিন্তু এই ক্যামেরাগুলোর নষ্ট হয়ে যাওয়া শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে না, বরং অপরাধীদের জন্য নিরাপত্তার একটি শূন্যতা লতরি করছে। নষ্ট ক্যামেরাগুলো দ্রুত মেরামত করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছে স্থানীয়রা। এটি না করলে মহাসড়কে অপরাধের সঠিক তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। পাশাপাশি নতুন এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিসি ক্যামেরা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে হবে। ক্যামেরা নষ্ট হওয়ার কারণে অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সিসি ক্যামেরা আধুনিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, প্রমাণ সংগ্রহ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। ঢাকা–চট্টগ্রাম সিসি ক্যামেরার নষ্ট হওয়ার কারণে পুলিশ অপরাধীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারছে না, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলছে। সরেজমিনে দেখা যায়. ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বসানো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরাগুলো ভাঙা থাকার কারণে অপরাধী দ্রুত শনাক্ত করতে সমস্যায় পড়ছে হাইওয়ে পুলিশ।
হাইওয়ে পুলিশ বা ট্রাফিক কন্ট্ররোল রুমের কর্মীরা দূরপাল্লার যান চলাচলের সময় তাৎক্ষণিক কোনো অনাকাঙ্খক্ষিত পরিস্থিতি, সড়ক দুর্ঘটনা বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনার সঠিক অবস্থান ও সময় নির্ধারণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। সিসি ক্যামেরার নজরদারি না থাকায় চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে এবং অপরাধীরা সহজেই অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ বিষয়ে কুমিল্লা কোটবাড়ি বিশ^রোড এলাকায় বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণী আফসানা খানম বলেন, আগে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী বিশ^রোড এলাকাটি সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকায় আমরা নিরাপদবোধ করতাম। কিন্তু এখন চলাচল করতে অনেক সময় অনিরাপওায় ভোগি। নিরাপত্তার স্বার্থে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সিসি ক্যামেরাটি জরুরীভাবে মেরামত করা প্রয়োজন। বাস চালক আলমগীর হোসেন বলেন, গেল কয়েকদিন আগে মহাসড়কের ভবেরচর এলাকায় যাত্রীবেশী ছিনতাইকারী চক্র তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় সর্বস্ব।
এ সময় আশপাশের সিসি ক্যামেরা বিকল থাকায় অভিযোগ দিয়েও কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি আলমগীর। প্রভাষক বদিউল আলম বলেন, মহাসড়কের ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে অপরাধীদের চিহিুত করা সম্ভব এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করাও সম্ভব। কোটবাড়ীর বিশ^রোড এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রুসুল বলেন, এই স্থানে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসেন। বিশ^বিদ্যালয় কিংবা কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা আসেন। অনেক সময় বহিরাগতরা মেয়েদের ইভটিজিং করা হয়। প্রায়ই অল্পবয়সী ছেলেরা দেশীয় অস্ত্রেরের মহড়া দেয়। সিসি ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি থাকলে এগুলো করার সাহস পেত না। মহাসড়কে চুরি, ছিনতাই এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়ার পেছনে সিসি ক্যামেরা ব্যবস্থার অকার্যকারিতা একটি বড় কারণ। অপরাধের সময় বা পরবর্তী তদন্তে অপরাধীর গতিবিধি ট্র্যাক করার জন্য সিসি ক্যামেরা ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মহাসড়কের সিসি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় পুলিশের হাতে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ থাকছে না। ফলে অনেক অপরাধী ধরা পড়ছে না, যা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে।
এই সমস্যার কুফল শুধু আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার নিরাপত্তায়ও প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়ে পূর্বাঞ্চলীয় হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বসানো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরাগুলো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অনেক কাজে আসে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ঝড়বৃষ্টির, বজ্রপাত এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে ক্রটির কারণে অনেক খুঁটিগুলো কাত হয়ে গেছে বা ক্যমেরা স্ট্যান্ড থেকে সরে গিয়ে ঝুলে গেছে আবার কোথাও দুষ্ট লোকেরা ঢিল মারায় ক্যামেরাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, সিসি ক্যামেরা আবার চালু করার জন্য। পাশাপাশি এগুলো রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।


