সারা শরীর শক্ত আঁশে ঢাকা, বিপদ বুঝলেই গোল হয়ে যায় বলের মতো। এই অদ্ভুত প্রাণীটির নাম প্যাঙ্গোলিন–বিশ্বের একমাত্র আঁশযুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী। বাংলাদেশে প্রাণীটি বনরুই হিসেবে পরিচিত। লাজুক ও নিশাচর এই প্রাণী প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বন উজাড়, অবৈধ পাচার ও কুসংস্কারের কারণে প্রাণীটির অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। বনরুইয়ের প্রধান খাবার পিঁপড়া ও উইপোকা। বছরে লাখ লাখ পোকা খেয়ে কৃষিজমি, বনাঞ্চল ও মানুষের বসতিতে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে এটি প্রাকৃতিক কীটনাশকের মতো কাজ করে। উইপোকার আক্রমণ কমাতে বনরুইয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণীটি শত্রুর আক্রমণ টের পেলেই শরীর গুটিয়ে শক্ত আঁশের বল তৈরি করে।
বাঘ বা বড় শিকারিও সহজে এর আঁশ ভেদ করতে পারে না। কেরাটিন দিয়ে তৈরি এই আঁশই বনরুইয়ের প্রধান সুরক্ষা। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, পৃথিবী থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে এই বিরল প্রাণী। বাংলাদেশে একসময় বনরুইয়ের অবাধ বিচরণ থাকলেও এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। মাঝে–মধ্যে কিছু কবিরাজকে খাঁচার বনরুই আটকে রেখে ফুটপাতে ওষুধ বিক্রি করতে দেখা যায়। আন্তর্জাতিকভাবে এর আঁশ ও মাংসের চাহিদার কারণে প্রাণীটি হুমকির মুখে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া বন্যপ্রাণীগুলোর একটি এখন বনরুই। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বনরুই বিলুপ্ত হয়ে গেলে পরিবেশে পোকামাকড়ের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে কৃষি ও বনজ পরিবেশে।



