ইতোমধ্যেই রাজধানীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় থাকছে ১১টি হাট। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি হাট বসবে। এরই মধ্যে ১৯টি হাটের ইজারা সম্পন্ন করেছে সংস্থা দুটি। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় কোরবানির পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পশু আসতে শুরু করেছে। ঢাকার হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলার খামারিরা ট্রাকে ট্রাকে দেশি গরু নিয়ে আসছেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চল ও চরাঞ্চলের খামারীরা এবার কোরবানির পশু নিয়ে আসছেন ঢাকার হাটগুলোতে। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির সময় ঘনিয়ে এলে আরো বিপুলসংখ্যক পশু ঢাকায় প্রবেশ করবে। তাদের আশা, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে পশুর সঙ্কট হবে না এবং দামও তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে। কয়েক বছর আগেও ভারতীয় পশুর কারণে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগতেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি পশুর হাট বসানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
ক্রেতা–বিক্রেতা এবং নগরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন প্রতিটি হাটে একটি করে কন্ট্রোল রুম বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। গবাদিপশু ও মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম (ডাক্তার) নিয়োজিত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে পুলিশের বিশেষ টহল। ইজারাদারদের এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোরবানির পশুর হাট নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ দিনের জন্য বসবে। এর আগে কোনো ধরনের বেচাকেনা বা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। হাট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রায় ১০০ জন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পশু বিক্রির অর্থ থেকে ইজারাদার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হাসিল নিতে পারবেন। এর বাইরে গরু বিক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো টাকা আদায়ের সুযোগ নেই। বৈধভাবে ইজারা দেওয়া হাট ছাড়া অন্য কোথাও পশুর হাট বসানোর অনুমতি নেই।
হাট এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করতে হবে। ঢাকা উত্তর সিটির ইজারা দেওয়া হাটগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ দর উঠেছে উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন বউবাজার এলাকার পশুর হাটের। এ হাটে সর্বোচ্চ ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা দর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ সিটিতে সর্বোচ্চ দর উঠেছে ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ির পানির পাম্প পর্যন্ত হাটের। এরই মধ্যে এসব হাটের ইজারা বুঝে পেয়েছেন সর্বোচ্চ দরদাতারা। অস্থায়ী হাটগুলোর পাশাপাশি ঢাকা উত্তরে স্থায়ী হাট গাবতলী পশুর হাট ও ঢাকা দক্ষিণে সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এ দুটি হাটেও কোরবানির পশু বিক্রি করা হবে। ঈদের দিনসহ মোট পাঁচদিন কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে এসব হাটে। এক কোটি ৭৯ লাখ টাকায় মিরপুর সেকশন–৬ এর ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন খালি জায়গা ইজারা পান মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মো. সিরাজুল ইসলাম। ৩০ লাখ ১১ হাজার টাকায় মিরপুর কালশী বালুর মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গায় রেদোয়ান রহমান, তিন কোটি ৮৭ লাখ টাকায় ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গায় শিকদার এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মো. আমিনুল ইসলাম, ১২ লাখ ৫৩ হাজার টাকায় ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদরাসার পাশের খালি জায়গায় এম আসলাম, ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকায় উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউ বাজার এলাকায় এস এফ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ ফরিদ হোসেন ইজারা পেয়েছেন। ২৭ লাখ টাকায় ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচপকুড়া বাজার সংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকায় রফিকুল ইসলাম সরকার, তিন কোটি সাত লাখ টাকায় খিলক্ষেতের মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার খালি জায়গায় বিল্লাল হোসেন, এক কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার টাকায় বনরুপা আবাসিক প্রকল্প এলাকায় আরিফিন অ্যান্ড আরা এন্টারপ্রাইজের মালিক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, দুই কোটি ৩৩ লাখ টাকায় বাড্ডার স্বদেশ প্রপার্টিজের খালি জায়গায় মুহাম্মদ তুহিনুর ইসলাম, পাঁচ কোটি ৭০ লাখ টাকায় বড় বেরাইদে বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গায় এ এম এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মো. আতাউর রহমান হাট ইজারা পেয়েছেন।
খিলক্ষেত বাজার সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের জায়গা (এক কোটি ৫১ লাখ টাকা), ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গা (১৪ লাখ টাকা), মোহাম্মদপুরের বছিলার ৪০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন খালি জায়গা (এক কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার ৪৫৬ টাকা), ভাটারার সুতিভোলা খাল সংলগ্ন খালি জায়াগা (তিন কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা), ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদরাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানারভোলা অ্যাভিনিউ সংলগ্ন উত্তরা সøুইচগেট পর্যন্ত (৮৮ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ টাকা টাকা), মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠের জায়গায় (৫০ লাখ টাকা) হাট ইজারায় কাঙ্খিত দর ও দরপত্র পাওয়া যায়নি। এসব হাটে পুনঃদরপত্র চলমান রয়েছে। ডিএসসিসির চার কোটি এক লাখ টাকায় পোস্তগোলা শশ্মানঘাটের পশ্চিম পাশের বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ের খালি জায়গায় হাটের ইজারা পেয়েছেন কাজী মাহবুব মাওলা হিমেল। তিন কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গায় আনিসুর রহমান টিপু, দুই কোটি ১৫ লাখ টাকায় আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গায় মো. জয়নাল আবেদীন রতন, চার কোটি ২০ লাখ টাকায় শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গায় মেসার্স সাফি এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর নাফিজ কবির, তিন কোটি ৬৫ লাখ টাকায় কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী পানির পাম্প পর্যন্ত রাস্তায় অব্যবহৃত খালি জায়গায় কে বি ট্রেডের প্রোপাইটর মো. শামীম খান ইজারা পেয়েছেন।
৭০ লাখ টাকায় মোস্তমাঝি মোড় সংলগ্ন গ্রিন বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গায় মো. গোলাম হোসেন, এক কোটি ৪০ লাখ টাকায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ পূর্ব পাশে খালি জায়গায় মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, ৫৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৪ টাকায় গোলাপবাগের আউটফল স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশে খালি জায়গায় বারাকা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর আমির হোসেন, ৭৫ লাখ ১৮ হাজার টাকায় রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গায় রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি টিপু সুলতান কোরবানির পশুহাটের ইজারা পেয়েছেন। বাকি দুই হাটের কাঙ্খিত দর ও দরপত্র পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো– সাদেক হোসেন খোকা খেলার মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা ও শ্যামপুর কদমতলী ট্রাক স্ট্যান্ডের খালি জায়গায়।


