শিক্ষা খাতের বাস্তব সমস্যাগুলো অনেক গভীর বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘কোথাও একটি বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার নেই, কোথাও বিদ্যালয়ের জমি–সংকট রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান সময়সাপেক্ষ হলেও সরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।’ প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ রচিত দেশের শিক্ষা সংস্কার নিয়ে গবেষণাভিত্তিক ও নীতিনির্ধারণমুখী গ্রন্থ “বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন”-এর মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠান গতকাল সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানেই তিনি এসব কথা বলেন। ববি হাজ্জাজ বলেন, দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে দেশের শিক্ষা খাতে মৌলিক গবেষণা ও গবেষণালব্ধ জ্ঞানের প্রয়োগ এখনও সীমিত। শিক্ষা আমাদের জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের মতোই শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, কার্যকর ও মানবিক করতে হবে। তিনি আরো বলেন, অতীতে যারা সরকারের সমালোচনা করেছেন, আজ দায়িত্বে এসে তাদেরও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সততা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা নিয়ে তার গভীর আগ্রহ ছিল। দেশ–বিদেশে শিক্ষাব্যবস্থা, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী শিক্ষা কাঠামো নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন কাজ ও আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং বিদেশে অবস্থানরত গবেষকরাও বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন। বক্তব্যে তিনি সরকারের জবাবদিহিতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অতীতে যারা সরকারের সমালোচনা করেছেন, আজ দায়িত্বে এসে তাদেরও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সততা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, একজন চিকিৎসক যেমন সঠিক চিকিৎসার আগে রোগ নির্ণয় করেন, তেমনি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সঠিক “ডায়াগনোসিস” জরুরি। বর্তমানে এমন অনেক সংকট রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন না করেই পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে।
ফলে জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক মানবসম্পদ তৈরিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন এই সংকট উত্তরণে গ্রন্থটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ। বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আনিসুল হক ও আব্দুন নূর তুষার



