সজিনা ফুল থেকে মৌমাছির মাধ্যমে মধু উৎপাদন করে সফলতা পেয়েছেন দিনাজপুরের ৪ তরুণ খামারি। প্রথমবার সজিনা ফুল থেকে মধু হারভেস্ট করে সকলকে অবাক করে দিয়েছেন তারা। সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামে সজিনা বাগানে গিয়ে মধু সংগ্রহের এ দৃশ্য দেখা যায়। প্রথম হারভেস্টে তারা ১শ’ ৫০ কেজি মধু সংগ্রহ করেছেন। যার আনুমানিক দাম প্রায় দেড় লাখ টাকা। জানা যায়, সজিনা ফুলের মধুকে সুস্বাদু, মিষ্টি, স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন বলে জানিয়েছেন মৌমাছি উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া সজিনা পাতা, ফুল ও ডাটা বাঙালির প্রিয় সবজি। এ সবজির মধ্যে আছে অনেক ওষুধিগুণ। সজিনা চাষে খুব একটা পুঁজি বা পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা, পরিত্যক্ত জায়গা, রাস্তার ধারে, খেতের আইলে সহজেই লাগানো যায় এ গাছ। পাতা, ফুল ও ফল প্রচুর উৎপাদন হয়। এবার তার সঙ্গে নতুন যুক্ত হলো মধু উৎপাদন।
দিনাজপুরে রয়েছে ব্যাপক সংখ্যক সজিনা গাছ। উৎপাদনও হয় ব্যাপক পরিমাণ। তবে জেলায় কী পরিমাণ সজিনা গাছ আছে, কত হেক্টর জমিতে চাষ হয়, কী পরিমাণ উৎপাদন হয়, এর কোনো পরিসংখ্যান কৃষি সম্প্রসারণ কেন্দ্রে নেই। ব্যাপারিরা বলছেন, দিনাজপুরের সজিনা জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায় যায়। কিন্তু এর ফুল কোনো কাজে আসছিল না। গত বছর খানসামা উপজেলার মৌ–খামারি হিরা লাল রায় সদর উপজেলার সদরপুরে পরীক্ষামূলকভাবে সজিনা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য মৌ–বক্স স্থাপন করে সফলতার মুখ দেখেন। তিনি ৫ কেজি মধু সংগ্রহ করেন। মধুর গুণগত মান ভালো হওয়ায় এবং চাহিদা থাকায় আরও ৩ মৌচাষিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহের জন্য ৭৫টি মৌবক্স স্থাপন করেন। হিরা লাল রায়, রিফাত ইসলাম, আরিফ ও সাগর একত্রে ২২ দিন পর মধু হারভেস্ট করেন। প্রথম হারভেস্টে তারা ১শ’ ৫০ কেজি মধু পেয়েছেন। এই ফুলে তারা আরও একবার হারভেস্ট করতে পারবেন বলে জানান। উৎপাদিত মধুর আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা। বাজারে এই মধু ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
মৌখামারি হিরা লাল রায় বলেন, ‘এবার সব খরচ বাদ দিয়ে লক্ষাধিক টাকা লাভ হবে। আগামীতে নতুন নতুন বাগান দেখে সজিনা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি অন্য খামারিদের সজিনা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে আগ্রহী করে তুলবো।’ রিফাত ইসলাম বলেন, ‘দিনাজপুরে সাধারণত লিচু, সরিষা, ধনিয়া, কালোজিরা, শসা ও কুমড়া ফুল থেকে মধু সংগ্রহ হয়। দিনাজপুরে এবারই প্রথম আমরা সজিনা ফুলের মধু সংগ্রহে সফলতা পেয়েছি। এই নতুন উৎস মৌখামারিরা আগামীতে কাজে লাগাবে বলে আশা করছি।’ দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ছাত্র আজমাইন ফাহি বলেন, ‘আমি মধু নিয়ে গবেষণা করছি। মধুর যে গ্রেড আছে, সেদিক থেকে সজিনা ফুলের মধুর গ্রেড ভালো। এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী।’
দিনাজপুর বিসিক বাঁশেরহাটের মৌমাছি পালনকেন্দ্রের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘দিনাজপুরে গত মৌসুমে সজিনা ফুলের মধু পরীক্ষামূলকভাবে সামান্য পরিমাণ উৎপাদন হয়েছিল। এবারই প্রথম হিরা লাল রায়, রিফাত ইসলাম, আরিফ ও সাগর নামে মৌখামারি সজিনা ফুলের মধু উৎপাদনে বাণিজিক্যভাবে সফলতা পেয়েছেন। আগামীতে মৌখামারিদের সজিনা ফুলের মধু সংগ্রহে প্রশিক্ষণ দিয়ে আগ্রহী করে তোলা হবে।


