শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ঈদুল ফিতরের পর জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সংবাদ সম্মেলনে তিন ধাপে সংস্কার আনার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। প্রথম ধাপ (ঈদুল ফিতর পর্যন্ত) বাজেট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ডায়াগনস্টিক রিভিউ, এরপর উন্নয়ন বাজেটের ৫৩ শতাংশ অব্যবহৃত ও ফেরত যাওয়ার কারণভিত্তিক বিশ্লেষণ, শিক্ষক ট্যাব এবং সবশেষে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ভাষা শিক্ষার পাইলট ডিজাইন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৩ শতাংশ অব্যবহৃত থেকে ফেরত গেছে।
দ্বিতীয় ধাপ (ঈদের পর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ও বিভাগভিত্তিক পরিমাপযোগ্য সূচকসহ জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। তৃতীয় ধাপ (১২–৩৬ মাস) পরীক্ষা ও মূল্যায়নে বড় ধরনের কারিগরি সংস্কার, সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ক্রেডিট ব্রিজিং এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও ইনোভেশন গ্র্যান্ট সম্প্রসারণ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। বর্তমানে শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির দেড় থেকে দুই শতাংশের মধ্যে রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মাসিক পাবলিক ড্যাশবোর্ড চালু করে প্রকল্প অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ, বই বিতরণ ও ক্লাস ঘণ্টা প্রকাশের কথাও জানান তিনি। মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে লার্নিং ট্রাজেক্টরি, কনসেপ্ট ম্যাপ, আইটেম ব্যাংক ও ব্লুপ্রিন্ট প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হবে। অতীতের দুর্নীতির নিরীক্ষণ করে ব্যবস্থা শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, অতীতে শিক্ষা খাতে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, তা নিরীক্ষণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বদলি বাণিজ্য ঠেকাতে অটোমেশন অ্যাপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলার জন্য কাজের মূল্যায়ন করে পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের বেতনে বিলম্ব হলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এহছানুল হক মিলন বলেন, জোট সরকারের সময় আমরা এনটিআরসিএ করেছিলাম। এখন থেকে খতিয়ে দেখে নতুন স্কুল অনুমোদন করা হবে। প্রশাসনিক দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্য সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, যখন দায়িত্বে ছিলাম না, শ্যাডো মন্ত্রী হিসেবে কাজ করতাম, গবেষণা করতাম। আমরা এখন চাইছি অটোমেশন সিস্টেম। একটা অ্যাপ খুলব, যেখানে কার বদলির সম্ভাবনা, কার কেমন রেজাল্ট, কার বদলি কীভাবে হতে পারে, কর্মকর্তা–কর্মচারীদের রেজাল্টের ভিত্তিতে তদবিরবিহীন বদলি নিশ্চিত করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ফ্রি ওয়াইফাই কর্মসূচিকে শেখার অপারেটিং সিস্টেমে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষা খাতে সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় তিন অগ্রাধিকার রয়েছে– শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানো, কারিকুলাম রিভিউ এবং ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল শিক্ষায় জোর।



