ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুদ্ধ নিয়ে তেহরান কোনোভাবেই উদ্বিগ্ন নয়, কারণ তারা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সংঘাত শুরু হয়, তবে তা ইরানের গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তেহরানে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আরাগচি। আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে আর আমরা নির্ভরযোগ্য আলোচনাসঙ্গী হিসেবে বিশ্বাস করি না।’ তবে তিনি যোগ করেন, আঞ্চলিক বন্ধুসুলভ দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান–প্রদানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে এবং তা ফলপ্রসূ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আরাগচি বলেন, আলোচনার ধরন নয়, বরং আলোচনার মূল বিষয়বস্তুর দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা। আরাগচি বলেন, ‘অসম্ভব বিষয় নিয়ে কথা বলা ঠিক নয়।
পারমাণবিক অস্ত্র যেন না থাকে এমন একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়। আমি আগেই বলেছি, এটি অল্প সময়ের মধ্যেই সম্ভব।’ এর বিনিময়ে ইরান আশা করবে, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার ইরানের অধিকারকে সম্মান জানানো হবে। আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতÑ এমন কথাও দেন আরাগচি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন যুদ্ধ ‘সবার জন্যই ভয়াবহ বিপর্যয়’ ডেকে আনবে ও সে ক্ষেত্রে পুরো অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। খবর আল জাজিরার।



