বার্ষিক চাঁদা বকেয়া থাকাসহ নানা সংকটে জাতিসংঘ ‘অত্যাসন্ন আর্থিক ধসের’ মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রকে পাঠানো গুতেরেসের একটি চিঠি পর্যালোচনা করেছে আল জাজিরা। চিঠিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব সংস্থাটি এক ভয়াবহ আর্থিক সংকটের সম্মুখীন। চিঠিতে গুতেরেস সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে জাতিসংঘের আর্থিক বিধিবিধানের আমূল সংস্কারে একমত হওয়ার অথবা ‘সংস্থাটির আর্থিক পতনের বাস্তব সম্ভাবনা’ মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশগুলোকে তাদের বার্ষিক চাঁদা পরিশোধের অনুরোধ করেছেন। জাতিসংঘের এই আর্থিক সংকটের জন্য গুতেরেস সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দেশকে দায়ী না করলেও তার এ আকুতি এমন একসময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোতে ওয়াশিংটনের অর্থায়ন কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। চলতি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু জাতিসংঘ সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
এ ছাড়া সম্প্রতি ট্রাম্প শান্তি পরিষদ নামে একটি সংস্থা চালু করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর লক্ষ্য হলো– জাতিসংঘকে কোণঠাসা করা। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বার্ষিক চাঁদা নির্ধারিত হয় প্রতিটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), ঋণ ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। জাতিসংঘের মূল বাজেটের ২২ শতাংশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র, এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ দেয় চীন। জাতিসংঘের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ৩৬ দেশ ২০২৬ সালের নিয়মিত চাঁদা পূর্ণাঙ্গভাবে পরিশোধ করেছে। বকেয়া থাকা দেশগুলোর নাম উল্লেখ না করে গুতেরেস জানান, ২০২৫ সাল শেষে বকেয়া চাঁদার পরিমাণ রেকর্ড ১৫৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘হয় সব সদস্য রাষ্ট্রকে পূর্ণাঙ্গ ও সময়মতো চাঁদা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে, নয়তো আসন্ন আর্থিক পতন রোধে আমাদের আর্থিক বিধিবিধান মৌলিকভাবে সংস্কার করতে হবে।’ আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে খরচ কমাতে চলতি জানুয়ারির শুরুতে ২০২৬ সালের জন্য ৩৪৫ কোটি ডলারের বাজেট অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ, যা গত বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। এত কিছুর পরও গুতেরেস চিঠিতে সতর্ক করেছেন, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সংস্থাটির নগদ অর্থ ফুরিয়ে যেতে পারে।



