দলের একজন কর্মী হিসেবে আমার কষ্ট সার্থক। প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি বেশি। বলতে পারেন দলের জন্য আমার দীর্ঘ জীবনের পরিশ্রমও সফল। শেষ বয়সে এসে দলের চেয়ারম্যান ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক যেভাবে সম্মানিত করেছেন তা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। এমনটা আমাদের দেশের জন্য ব্যতিক্রম। আমার মতো একজন সাধারণ মানুষকে নগণ্য কর্মীকে ডেকে মঞ্চে নিয়ে তিনি যে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছেন এটা জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া। তার এই ভালোবাসা ও সম্মান মৌলভীবাজার জেলাবাসী তথা পুরো দেশের দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর। মৌলভীবাজারের আইনপুরের জনসভায় বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চেয়ারে বসা সেই বৃদ্ধকর্মী আবেগাপ্লুত। এখন তিনি জেলা শহরের যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই বিএনপি ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভিড় করে তাকে নিয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছেন। অনেক উপজেলা নেতাকর্মী আগ্রহ নিয়ে আসছেন তার সঙ্গে দেখা করতে ও ছবি তুলতে। আইনপুরে বিএনপি’র ২য় নির্বাচনী জনসভার পর থেকে তিনি এখন ভাইরাল। তার পুরো নাম শফিকুল ইসলাম। মৌলভীবাজার জেলা শহরের বড়হাট এলাকায় বাড়ি। বয়স ৬৯ বছর। এক ছেলে, ৩ মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে সংসার। ১৯৭৮ সালে জাগো যুবদলের সদস্য হন মামা গ্রাম সরকার আব্দুল মনাফের হাত ধরে। তার মামা ছিলেন জাগো দলের জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। শফিক ১৯৬৯ সালে জাগো যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হন। পরবর্তীতে জেলা যুবদলের সহ–সভাপতি হন। এরপর থানা বিএনপি’র সহ–সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক, জেলা বিএনপি’র সদস্য, পৌর বিএনপি’র সিনিয়র সহ–সভাপতি, জেলা বিএনপি’র সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সরকার বাজার এম সাইফুর রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খাল কেটেছি। নিজের মাথায় মাটি বহন করেছি। তার দৃঢ় প্রত্যাশা আগামীদিনেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে খালকাটা কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেবেন। শফিক জানান, ২২শে জানুয়ারি তিনি সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের আইনপুর খেলার মাঠের জনসভায় যোগ দিতে ভোর ৬টার দিকে পৌঁছান। জনসভার মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা উপ–কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত হন। তারেক রহমান আসার আগে তিনি মঞ্চের ঠিক সামনে দলীয় নেতা ও অতিথিদের আসনে বসেন। দলের নির্বাচনী প্রচারণার ঐতিহ্যনুযায়ী দুই ওলির মাজার জিয়ারত করে সিলেটের জনসভা শেষ করে বেলা ৩টার দিকে তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে সামনে বসা অনেক নেতাকর্মীর সঙ্গে করমর্দন করেন। মঞ্চে রাখা নির্দিষ্ট ডায়াসে বক্তব্য না রেখে তিনি মাইক্রোফোন হাতে মঞ্চের মধ্যখানে চলে আসেন। সেখানে তিনি সালাম জানিয়ে সিলেটি আঞ্চলিক ভাষায় সবার কুশল জিজ্ঞাসা করে বক্তব্য শুরু করেন। জেলার ৪টি আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান একটি সংগঠনের নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে অপপ্রচার ও অপকৌশলের কথা তুলে ধরতে উদাহরণের জন্য হজ বা ওমরা করা একজন মুরব্বিকে খোঁজেন। তখন অনেকেই হাত উঁচিয়ে নিজেকে জানান দিলেও শফিকুল ইসলামের প্রতি দৃষ্টি পড়ে তারেক রহমানের।
তখন তিনি নির্দিষ্ট করে শফিককে দেখিয়ে বলেন ওই নীল ফিতা ওয়ালা কার্ড ঝুলানো ব্যক্তিকে মঞ্চে নিয়ে আসার জন্য। এরপর তিনি নিরাপত্তাকর্মী ও দলের নেতাদের সাহায্যে মঞ্চে ওঠেন। শফিককে তিনি জিজ্ঞেস করেন আপনি তো কাবা শরিফে গিয়েছেন, কাবা শরিফের মালিক কে? এখানে সবাই মুসলমান উল্লেখ করে তারেক রহমান তার কাছে তিনি জানতে চান এই দুনিয়া, জান্নাত–জাহান্নামের মালিক কে? জবাবে তিনি বলেন আল্লাহ। এরপর বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন আপনারা সবাই সাক্ষী দিলেন, দোজখের মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, সবার মালিক আল্লাহ। জেতার মালিকও আল্লাহ। সেটা কি অন্য কেউ দেয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দিবো, ওই দিবো বলছে, বেহেস্তের টিকিট দিবে বলছে। জেতার মালিক মানুষ না, সেইটার কথা বলে শিরক করা হচ্ছে। শিরককারী ও মোনাফিকের দলের অপ্রচারে কান না দেয়ার আহ্বান জানান। এরপর ওই ব্যক্তিকে তার আসনে বসান। এমন দৃশ্য জনসমাবেশে উপস্থিত জনতা হাত তালি দিয়ে অভিবাদন জানান।



