টি–২০ বিশ্বকাপ শুরু হতে সময় বাকি মাত্র ১০ দিন। কিন্তু বিশ্বকাপ নিয়ে জটিলতা শেষ হয়নি এখনো। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায় খেলতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। আইসিসি রাজি হয়নি। ভেন্যু বদলায়নি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ১৬ দলের টি–২০ বিশ্বকাপে। যা শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের অনুরোধ না রাখায় পাকিস্তানও টি–২০ বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে পিসিবির বয়কটের ইঙ্গিতে টি–২০ বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর বিষয়টি জটিল হচ্ছে দিন দিন। এর মধ্যে ২০ ওভারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকায় সাবেক বিশ্বসেরা তারকা ক্রিকেটাররা হতাশ হয়েছেন। ক্রিকেট বিশ্বের একমাত্র ‘৩৬০’ ডিগ্রি ক্রিকেটার দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স হতাশা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ না খেলায়। পাকিস্তানের আরেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফও হতাশ হয়েছেন। হতাশ হয়েছেন শহীদ আফ্রিদি, জেনসন গিলেস্পির মতো ক্রিকেটার। গিলেস্পি লেখা পোস্ট করেও সমালোচনায় জর্জরিত হয়ে সেটা মুছে ফেলেন। বাংলাদেশকে যেদিন আইসিসি ভোটাভুটি করে বাদ দেয়, সেদিনই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ক্রিকেট উন্নয়নে চুক্তি করে বিসিবি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্স এখন খেলছেন না। টি–২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন প্রোটিয়া কিংবদন্তি এ ক্রিকেটার। নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ‘এবি ডি ভিলিয়ার্স ৩৬০’ এ তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে আড্ডার মেজাজে নানান বিষয়ে কথা বলেন। তিন দিন আগে এক আড্ডায় বাংলাদেশের টি–২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে ৪১ বছর বয়সি ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আমি কারও পক্ষ নিতে চাই না। এটা রাজনৈতিক ইস্যু এবং ব্যক্তিগত বিষয়। অবশ্য এটা বলতে পারি, ব্যাপারটা কখনোই ওই পর্যন্ত যাওয়া উচিত হয়নি। যেখানে একটি দলকে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। খারাপ লাগছে। ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতিকে জড়িয়ে ফেলানোকে আমি ঘৃণা করি। রাজনীতির কারণেই ব্যাপারটা এ পর্যন্ত এসেছে। এটা খুবই দুঃখজনক।’ আইসিসির কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফ।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক তাঁর এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন, ‘নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ড, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানের মিলিত ক্রিকেট দর্শকসংখ্যার প্রায় সমান দর্শক বাংলাদেশের একার–ই। ১০ দেশ মিলে দর্শক ১৭ কোটি ৮০ লাখ। বাংলাদেশে দর্শক ১৭ কোটি ৬০ লাখ।’ ইউসুফ একই পোস্টে লেখেন, ‘খেলাটি যেখানে বৈশ্বিকভাবে দর্শকদের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত ন্যায়সংগত উদ্বেগকে আইসিসির উপেক্ষা করা ঠিক হয়নি। ক্রিকেটকে প্রভাব নয়, নীতি অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে।’



