বাগেরহাটে ৯ মাসের শিশু সন্তানকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর নিজ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কানিজ সুর্বণা স্বর্ণালী (২২) নামের এক গৃহবধূ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত শিশু নাজিম হোসেন ও তার মা কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তান। জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় যশোর কারাগারে রয়েছেন। স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দি থাকায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে স্বর্ণালী প্রথমে তার শিশুসন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন জুয়েল। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। স্বর্ণালী তার স্বামীকে খুব ভালোবাসতেন এবং তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং হতাশায় ভুগছিলেন। হতাশা থেকেই প্রথমে ৯ মাসের শিশুকে বালতিতে থাকা পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন বলেও জানান স্থানীয়রা। সাদ্দামের বাড়িতে তার মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তান একসঙ্গে বসবাস করতেন বলেও জানা গেছে। স্বর্নালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যাই করেছে। আমরা কাউকে দোষ দিতে চাই না।
ময়নাতদন্ত ছাড়া মেয়ে ও নাতনির মরদেহ নেওয়ার জন্য আমরা আবেদন করেছি। এখন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেয়।’ এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী ও তার ৯ মাসের শিশু সন্তান নাজিম হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা না আত্মহত্যা সেবিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।



