বাংলাদেশে বিরল পরিযায়ী পাখি ধলাটুপি লালগির্দি। এলাকাভেদে এই পাখি সাদাটুপি লালগির্দি নামেও পরিচিত। শীতকালে এরা আমাদের দেশে আসে। তবে সচরাচর দেখা মেলে না। মাঝে–মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জলপ্রপাত ও নদীতে দেখা যায়। এদের ইংরেজি নাম : White-capped water Redstart. বৈজ্ঞানিক নাম : Chaimarrornis leucocephalus. পৃথিবীতে এই পাখির একটি মাত্র প্রজাতি রয়েছে। এরা পতঙ্গভুক পাখি। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড থেকে এই পাখির ছবি তুলেছেন শৌখিন ফটোগ্রাফার খোকন থৌনাউজম। ধলাটুপি লালগির্দির দৈর্ঘ্য ১৩ সেন্টিমিটার। পুরুষ ও মেয়ে পাখি দেখতে একই রকম। পুরুষ পাখি শুধু আকারে একটু বড় হয়। কপাল, ঘাড় ও বুক নীলচে কালো। মাথা ধবধবে সাদা। ডানা কালো। বুকের নিচ, পেট ও কোমর লালচে। লেজের প্রান্ত দেশে প্রশস্ত কালো ফিতা রয়েছে। ঠোঁট কালো। চোখ কালচে নীল। পা ও পায়ের পাতা কালচে। তবে পূর্ণ বয়স্ক পাখির দেহের প্রায় পুরোটা কালো ও লালচে।
এই পাখি সাধারণত পর্বতের জলাধার, নদী, খাল, উঁচু পর্বতের তৃণভূমি, শিলাময় অঞ্চল ও বরফে ঢাকা এলাকায় বিচরণ করে। কখনো একা কখনো জোড়ায় থাকে। এরা পানির ধার অথবা উঁচু পর্বতের তৃণভূমিতে খাবার খোঁজে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে পোকামাকড় ও রসালো ফল। এরা হিমালয়ের স্থায়ী বাসিন্দা। এদের প্রজননের সময় মার্চ থেকে আগস্ট মাস। এ সময় তারা নিজ আবাসভূমিতে ফিরে যায়। শিলার নিচে বা শিলার মুখে গর্তে শেওলা, পাতা, ঘাস ও চুল দিয়ে বড় বাটির মতো বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ২ থেকে ৩টি। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, চীন, নেপাল, মিয়ানমার লাওস ও ভিয়েতনামসহ দক্ষিণ, পূর্ব ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় এদের বিচরণ রয়েছে। খোকন থৌনাউজম বলেন, বিরল এই পাখিটি দুই–তিন বছর ধরে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে আর কোথাও দেখা যায়নি। তবে দেশের অনন্য বিভাগে দেখা গেছে।


