চট্টগ্রামের
সীতাকু–ের
জঙ্গল সলিমপুরে
অস্ত্র উদ্ধার
অভিযানে গিয়ে
দুর্বৃত্তদের হামলায়
এক র্যাব কর্মকর্তা
নিহত হয়েছেন।
তাঁর নাম
নাম আব্দুল
মোতালেব। তিনি
র্যাব–৭ এর উপসহকারী
পরিচালক হিসেবে
কর্মরত ছিলেন।
এ ঘটনায়
আহত হয়েছেন
আরো কয়েকজন।
গতকাল সোমবার
সন্ধ্যায় এ
ঘটনা ঘটেছে।
জানতে চাইলে
চট্টগ্রাম রেঞ্জের
উপমহাপুলিশ পরিদর্শক
(ডিআইজি) আহসান হাবীব
পলাশ রাত
আটটার দিকে
বলেন, সীতাকু–ের
জঙ্গল সলিমপুরে
অভিযানে গিয়ে
র্যাবের
ডিএডি পদমর্যাদার
এক কর্মকর্তা
নিহত হয়েছেন।
তবে ঘটনার
বিষয়ে গতকাল
রাত সাড়ে
৮টার দিকে
র্যাব–৭ সহকারী পরিচালক
(গণমাধ্যম) এআরএম মোজাফফর
হোসেন গণমাধ্যমে
পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে
উল্লেখ করা
হয়, জঙ্গল সলিমপুর
এলাকায় অভিযান
পরিচালনার সময়
সন্ত্রাসীদের হামলার
শিকার হন
র্যাব
সদস্যরা। এতে
৪ জন
গুরুতর আহত
হন। এর
মধ্যে একজন
র্যাব
সদস্য নিহত
হন চিকিৎসাধীন
অবস্থায়। বাকি
তিনজন চিকিৎসাধীন
রয়েছেন চট্টগ্রাম
মেডিক্যাল কলেজ
হাসপাতালে।
পুলিশ ও র্যাব
সূত্র জানায়,
র্যাব
জঙ্গল সলিমপুরে
অস্ত্র উদ্ধার
অভিযানে গেলে
র্যাবের
ওপর অতর্কিত
হামলা চালায়
সেখানে থাকা
সন্ত্রাসীরা।
তারা
এক পর্যায়ে
র্যাবের
কয়েকজন সদস্যকে
ছিনিয়ে নেয়।
প্রকাশ্যে চালানো
হয় গুলি।
চট্টগ্রাম নগরের
বায়েজিদ বোস্তামী
থেকে দুই
কিলোমিটার পশ্চিমে
এশিয়ান উইমেন
ইউনিভার্সিটি। এর
বিপরীতে লিংক
রোডের উত্তর
পাশে ৩
হাজার ১০০
একর জায়গায়
জঙ্গল সলিমপুরের
অবস্থান। সীতাকু–ে এটির অবস্থান
হলেও এটি
অনেকটা নগরের
ভেতরেই। এর
পূর্ব দিকে
রয়েছে হাটহাজারী
উপজেলা এবং
দক্ষিণে বায়েজিদ
থানা। জঙ্গল
সলিমপুর দুর্গম
পাহাড়ি এলাকা
হওয়ায় এটি
হয়ে উঠেছে
সন্ত্রাসীদের নিরাপদ
আস্তানা। গত
বছরের ৫
আগস্ট দেশের
রাজনীতির পটপরিবর্তনের
পর এ
এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ
নিয়ে সংঘর্ষ,
খুনোখুনির ঘটনা
ঘটে চলছে।
সম্প্রতি এলাকায়
দখল–নিয়ন্ত্রণ
নিয়ে সন্ত্রাসীদের
দুটি পক্ষের
মধ্যে সংঘর্ষ,
গোলাগুলি হয়।
এতে একজন
নিহত হন।
পরদিন সেখানে
প্রতিবেদন তৈরি
করতে গিয়ে
সন্ত্রাসীদের হামলা
ও মারধরের
শিকার হয়েছেন
দুই সাংবাদিক। চার দশক ধরে
সরকারি পাহাড়
কেটে গড়ে
উঠেছে কয়েক
হাজার অবৈধ
বসতি। এখনো
পাহাড় কেটে
চলছে প্লট
বাণিজ্য। আর
এই বাণিজ্য
ও দখল
টিকিয়ে রাখতে
এলাকাটিতে গড়ে
তোলা হয়েছে
সন্ত্রাসী বাহিনী।
এলাকাটি সার্বক্ষণিক
সশস্ত্র পাহারায়
থাকে এসব
সন্ত্রাসীরা। এলাকায়
বাসিন্দাদের প্রবেশের
জন্য রয়েছে
পরিচয়পত্র। বাসিন্দা
ছাড়া বাইরের
কেউ এলাকায়
ঢুকতে পারেন
না।
এমনকি পুলিশ, জেলা প্রশাসনের লোকজনও এলাকাটিতে প্রবেশ করতে গিয়ে অনেকবার হামলার শিকার হয়েছেন। এর আগে ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল বড়ইতলা ২ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষে ফেরার পথে হামলায় জেলা প্রশাসনের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক, সীতাকু– থানার ওসি তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর ককটেল, ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও গুলি ছোড়ে। এর আগের বছর ২০২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি র্যাবের সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছিল। একই বছরের ২ আগস্ট অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে বাধা দেয়া হয় জেলা প্রশাসনের লোকজনকে। ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আলীনগরে অবৈধ বসতি ভাঙতে যায় প্রশাসন। সেই সময় আলীনগরের সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা করে।



