গবেষণা অনুযায়ী, জিএসপি প্লাস সুবিধা হারালে এক বছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি প্রায় ১৪ শতাংশ কমতে পারে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি ডলার। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৩ শতাংশই জিএসপি সংক্রান্ত বাণিজ্য সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি–নভেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮০৫ কোটি ইউরোতে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বেশি শুল্কের মুখে পড়া দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ ইউরোপের বাজারে বেশি পরিমাণ পোশাক পাঠাতে শুরু করেছে, অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দামে। এর ফলে ইউরোপীয় পোশাক বাজারে প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে বার্ষিক হিসাবে প্রবৃদ্ধি থাকলেও মাসভিত্তিক হিসেবে কিছুটা চাপ লক্ষ্য করা গেছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমে ১৩৭ কোটি ইউরোতে নেমে আসে। একই সময়ে পোশাকের একক মূল্য ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ কমলেও রপ্তানির পরিমাণ ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে পরবর্তী ১২ মাসে একক মূল্য মোট ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে ইউরোপে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ। বিশ্বের শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক চীনের সঙ্গে ব্যবধানও ধীরে ধীরে কমছে। গত বছরের জানুয়ারি–নভেম্বর সময়ে চীন ইউরোপে ২ হাজার ৪৪২ কোটি ইউরো মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপের ২৭টি দেশ ৮ হাজার ২৯৪ কোটি ইউরো মূল্যের পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কের রপ্তানি ১১ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ৭৬৫ কোটি ইউরোতে নেমেছে। বিপরীতে ভারতের রপ্তানি ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ৪২৪ কোটি ইউরো, কম্বোডিয়ার ১৫ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ৪১৪ কোটি ইউরো এবং ভিয়েতনামের রপ্তানি ১০ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৪০১ কোটি ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের রপ্তানি ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৩৫৪ কোটি ইউরো হলেও মরক্কোর রপ্তানি সামান্য কমে ২৫২ কোটি ইউরোতে নেমেছে। শ্রীলঙ্কার রপ্তানি ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও ইন্দোনেশিয়ার ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জিএসপি প্লাস সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আলোচনার গতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার কথা।
আগামী ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাবে। উত্তরণের পর ইউরোপে তিন বছরের একটি রূপান্তরকালীন সময়ে বিদ্যমান জিএসপি সুবিধা বহাল রাখবে। তবে জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে হলে বাংলাদেশকে মানবাধিকার, শ্রমমান, পরিবেশ সুরক্ষা ও সুশাসন সংক্রান্ত ৩২টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়ন করতে হবে। এই সুবিধা নিশ্চিত না হলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১২ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ হতে পারে, যা রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতাশীলতায় বড় ধাক্কা দেবে।



