ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মারাঠাওয়াড়া অঞ্চলে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা এক উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই অঞ্চলে মোট ১,১২৯ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই পরিসংখ্যান ওই অঞ্চলের কৃষি সংকট ও কৃষকদের চরম দুর্দশার চিত্রই ফুটিয়ে তুলছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মারাঠাওয়াড়ার আটটি জেলার মধ্যে ‘বিড’ জেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। এই জেলাতে গত এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা নিবন্ধিত হয়েছে। বিড ছাড়াও ছত্রপতি সম্ভাজিনগর (আওরঙ্গবাদ), জালনা এবং লাতুর জেলাতেও আত্মহত্যার হার অনেক বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলে আত্মহত্যার সংখ্যা ওঠানামা করলেও ২০২৫ সালের সংখ্যাটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
এর আগে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই সংখ্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, ২০২৫ সালে তা হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পায়। কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মতে, এই গণ–আত্মহত্যার পেছনে বেশ কিছু কারণ দায়ী: ১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ: অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। ২. ঋণের বোঝা: ব্যাংক এবং মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারা। ৩. ফসলের দাম: বাজারে ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি। ৪. সরকারি সহায়তার অভাব: অনেক ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য বা বিমার টাকা সময়মতো কৃষকদের হাতে না পৌঁছানো। মারাঠাওয়াড়ার এই সংকট নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কৃষক সংগঠনগুলো অবিলম্বে কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সরকারের কাছে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের দাবি তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট কৃষি বিপর্যয় মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হয়ে পড়বে



