মোংলায় পৌষের তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপকূলীয় এই অঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সঙ্গে ঘন কুয়াশার প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। সাগর ও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাজুড়ে কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে চারপাশ, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে দৃশ্যমানতা অনেক কমে গেছে। বাধ্য হয়ে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছে। একই সঙ্গে নদীপথেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি। দৃশ্যমানতা কম থাকায় নৌযান চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই মোংলা ইপিজেডের হাজার হাজার কর্মজীবী নারী ও পুরুষ প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে মোংলা নদী পার হচ্ছেন। এদিকে কুয়াশার প্রভাবে মোংলা বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। বন্দরে নোঙর করা বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে চ্যানেলে বড় নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, ফলে বন্দরের কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে স্থবিরতা। প্রচণ্ড শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। জীবন ও জীবিকার তাগিদে কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে তাঁদের। গাড়িচালক মহসিন মৃধা ও জাকারিয়া হাওলাদার জানান, কুয়াশার কারণে রাস্তায় সামনে কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।
হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। একদিকে তীব্র শীত, অন্যদিকে কুয়াশা দুটো মিলিয়ে কাজ করা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তবু কাজ না করলে সংসার চালানো সম্ভব নয় বলেও জানান তাঁরা। নদীপথে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কথা জানিয়ে ফেরিচালক সোহরাব হোসেন বলেন, নদীতে কুয়াশা এতটাই ঘন যে সামনে কিছুই দেখা যায় না। এই চ্যানেলে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক নৌযান চলাচল করে, ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। তবু যাত্রী পারাপার বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। অপরদিকে, পণ্যবাহী কার্গো জাহাজের মাস্টার ইলিয়াস জানান, কুয়াশার কারণে জাহাজ চালানো নিরাপদ নয় বলে মালবোঝাই অবস্থায় জাহাজ নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না, এতে সময় ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। মোংলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ জানান, বর্তমান শীত ও কুয়াশার এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ফলে আগামী দিনগুলোতেও জনজীবনে ভোগান্তি অব্যাহত থাকার শঙ্কা রয়েছে।



