সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের দুই নারী ও শিশুসহ ২০ জন শ্রমিককে কক্সবাজারের একটি ইটভাটায় আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে তারা ঈদগাঁও থানাধীন ভুমুরিয়া কোনা এলাকার আরএমএম ব্রিকসের ভাটায় বন্দি বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। বন্দি শ্রমিকরা সবাই কালিগঞ্জের কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন– মো. কামাল হোসেন, মো. রেজাউল, মো. ইসমাঈল, আলমগীর হোসেন, তরিকুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্দুর রহিম, মো. আনিছুর রহমান, মো. আবু সালাম, আরিফুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, আশিকুর রহমান সম্রাট, মো. আ. রউফ, আব্দুর রহমান, মো. ইয়াছিন, মো. মফিজুল, মো. আরিফুল ইসলাম, মো. হুসাইন, মোছা. মর্জিনা খাতুন, মোছা. রোজিনা খাতুন ও রোজিনার চার বছর বয়সী ছেলে জুনায়েদ। কামাল হোসেনের ভাই জালাল হোসেনের ভাষ্য, ৫৫–৬০ জন শ্রমিক নিয়ে সর্দার বাবু ও মো. মুনছুর আলী গত ২০ অক্টোবর আরএমএম ব্রিকসের ভাটায় কাজ করতে যান।
দুই মাস কাজ করার পর টাকা–পয়সার বিষয় নিয়ে ভাটার মালিক বাবুল আহম্মেদের সঙ্গে তাদের ঝামেলা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দু্ই সর্দার ২২ ডিসেম্বর সেখান থেকে চলে যান। মাটি খারাপ হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে একই দিন আরও ৩০–৩৫ জন শ্রমিক পালিয়ে যান। ২৩ ডিসেম্বর থেকে বাকি ২০ শ্রমিককে বাবুল ও তাঁর লোকজন ভাটায় আটকে রেখে কাজ করতে বাধ্য করেন। জালাল হোসেন বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শ্রমিকরা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাটার মালিকের লোকজন ঈদগাঁও থানার ভুমুরিয়া কোনা এলাকার একটি বদ্ধকক্ষে সবাইকে বন্দি করে রেখেছে। তাদের ঠিকমতো খাবার দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি নানাভাবে অত্যাচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক শ্রমিকের স্বজন জানান, বন্দি করার পর শুরুতে তাদের ভাটা থেকে খাবার দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা নিজেদের টাকায় দিনে এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করছেন। আগে তাদের একটা বদ্ধ কক্ষে রাখা হলেও এখন গোয়ালঘরে আটকে রেখেছে বলে জানতে পেরেছেন।
কারণে–অকারণে বন্দি শ্রমিকদের মারধর করা হচ্ছে বলে জানান আ. রউফের স্বজনরা।
তারা বলেন, দুই সর্দার এলাকায় ফিরছে না। এদিকে দিনের পর দিন বন্দি থাকায় সব শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সর্দাররা টাকা নিয়ে পালালেও মামলা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ভাটার মালিক নিরীহ শ্রমিকদের বন্দি রেখে হয়রানি করছেন। বক্তব্য জানতে আরএমএম ব্রিকসের মালিক বাবুল আহম্মেদের মোবাইল ফোন নম্বরে গতকাল সোমবার দফায় দফায় কল দিলেও তিনি ধরেননি। এদিন সন্ধ্যায় ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মজুমদার সমকালকে বলেছেন, ইটভাটায় শ্রমিক আটকে রাখার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। তাই বিষয়টি তাঁর জানা নেই। কেউ অভিযোগ করলে তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।



