উত্তর জনপদের নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়ন এখন বিষমুক্ত ও নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এখানকার উৎপাদিত শাক–সবজি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে সুনাম অর্জন করায় ইউনিয়নের কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কৃষকেরা জৈব পদ্ধতিতে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করছেন। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ কমছে, অন্যদিকে ভালো ফলনের পাশাপাশি বিষমুক্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এ পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সারা দেশে পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব ইউনিয়নকে সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) মডেল ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এ প্রকল্পের আওতায় সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নে ৫০০ জন কিষান–কিষানিকে নির্বাচন করে নিরাপদ সবজি উৎপাদনকারী দল গঠন করা হয়। প্রতি গ্রুপে ২৫ জন করে মোট ২০টি গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব কৃষককে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই ফসল উৎপাদনের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রত্যেক কৃষকের কমপক্ষে ২০ শতক জমিতে জৈব কৃষি ও জৈবিক বালাই দমন ব্যবস্থাপনার প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে এসব প্লটে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়েছে। অনেক কৃষক উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করে ভালো লাভ করছেন। ইউনিয়নের শাসকান্দর, কাঙ্গালপাড়া, তেলিপাড়া, পাঠানপাড়া, অচিনারডাঙ্গা, বোতলাগাড়ি ও সোনাখুলি এলাকায় ব্যাপকভাবে শাক–সবজি আবাদ হচ্ছে। এসব সবজির পরিচর্যায় কৃষকেরা দিনের অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকছেন এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের শাসকান্দর গ্রামের আদর্শ কৃষক আব্দুল কাদের জানান, আগে সবজি চাষে তিনি প্রচুর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতেন।
তবে চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের পরামর্শে জৈব সার ও জৈবিক বালাইনাশক ব্যবহার করে তিনি আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন। তার মতো অনেক কৃষকই এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। বোতলাগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন বলেন, এ ইউনিয়নের মাটি শাক–সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে এখানকার কৃষকেরা আগাম সবজি উৎপাদন করে ভালো আয় করছেন। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, বোতলাগাড়ি আইপিএম মডেল ইউনিয়নে ৫০০ জন কিষান–কিষানিকে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জৈব কৃষি ও জৈবিক বালাই দমন ব্যবস্থাপনার প্রদর্শনী প্লট স্থাপনে সার, বীজসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।



