দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে ৩০০ ফিট থেকে সরাসরি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মায়ের শয্যাপাশে ছুটে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মা বেগম খালেদা জিয়াকে সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখে হাসপাতালে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় বলে জানান দলটির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য। প্রায় ২ ঘণ্টা হাসপাতালে মায়ের পাশে অবস্থান করে তিনি গুলশানে নিজ বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। গতকাল বিকাল ৫টা ৫৩ মিনিটের দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান তারেক রহমান। এখানে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সার্বিক চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসক দলের কাছে খোঁজ নেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসক দলের সদস্যরা। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।
এর আগে রাজধানীর বসুন্ধরা স্মাট সিটির পাশে ৩০০ ফিটে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে মাকে দেখতে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় নেতা–কর্মীদের ভিড় ঠেলে গাড়িবহর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছায় সন্ধ্যা ৫টা ৫৩ মিনিটের দিকে। হাসপাতালে প্রবেশের সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। পরে রাতে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে ফিরে যান তারেক রহমান। এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবন থেকে রওনা হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে আসেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখানে টানা ৩২ দিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৩ নভেম্বর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানান জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ৫ ডিসেম্বর পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান লন্ডন থেকে দেশে এসে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সার্বিক খোঁজ নিয়ে আবার লন্ডন ফিরে যান। এরপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে গতকাল দেশে ফিরে আসেন তিনি। তারেক রহমানকে একপলক দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ঢল নামে নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের। হাসপাতালের সামনে দলীয় নেতা–কর্মীদের অনেকে তারেক রহমানের ছবিসংবলিত টিশার্ট পরে ও দলীয় পতাকা হাতে অবস্থান করেন। হাসপাতালের সামনে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।



