ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আজিমপুর কবরস্থানে এক সময় কবর সংরক্ষণের সুযোগ থাকলেও এখন বন্ধ। দেড় থেকে দুই বছর পরই একটি কবরের ওপর আরেকটি কবর দেওয়া হচ্ছে। কবর সংরক্ষণের জন্য অনেক আবেদন জমা পড়ে আছে ডিএসসিসির কাছে। বিষয়টি এখন মেয়র বা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন। এ বিষয়ে একটি প্রবিধানমালা স্থানীয় সরকার বিভাগে জমা দিয়েছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সরকার বিভাগ অনুমতি দিলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুনর্বিবেচনা করা হবে কবর সংরক্ষণ ফি। রাজধানীর সবচেয়ে বড় আজিমপুর কবরস্থান। ৪০০ বছরের এই কবরস্থানে এক কবরের ওপর হয়েছে শত শত কবর। ৩৫ একর জায়গা নিয়ে এই কবরস্থানে প্রতিদিন গড়ে ৩০টি লাশ দাফন করা হয়। বছরে ১০ থেকে ১২ হাজার কবরের ব্যবস্থা আছে এখানে। সম্প্রতি কবরস্থানটিতে গিয়ে মোহরারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু কবর সংরক্ষিত। সাধারণ কবরে ১৮ মাস পর নতুন করে কবর দেওয়া হয়। পুরনো কবরে হাড় পাওয়া গেলে সেখানেই নিচের দিকে রেখে তার ওপর নতুন মৃতকে দাফন করা হয়। কবর সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। আগে লিজে ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করা যেত। এটি আবার চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। সে সময় ২৫ বছরের জন্য ২০ লাখ টাকায় কবর সংরক্ষণ করা যেত।
২০ বছরের জন্য ১৫ লাখ, ১৫ বছরে ১০ লাখ আর ১০ বছরের ফি ছিল ৫ লাখ টাকা। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানান, ২৫ বছরের জন্য সবাই ২০ লাখ টাকায় কবর সংরক্ষণ করলে সাধারণ মানুষের সংকট হবে। নিরুৎসাহিত করতেই সংরক্ষণের সুযোগ বন্ধ আছে। এখানে কবর খোঁড়া, বাঁশ–চাটাইসহ বড় লাশ ১ হাজার ১০৫, মাঝারি ৭১৬ এবং শিশুদের জন্য ৪৪৮ টাকা। পুনঃকবরের ক্ষেত্রে একটি কবরের পর পরিবারের আরেক সদস্যের দাফনে ৫১ হাজার টাকা লাগবে। কবর সংরক্ষণ করতে চাইলে আগে সাধারণভাবে দাফন করতে হবে। এরপর সংরক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশন বরাবর আবেদন করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর কেউ কবর সংরক্ষণ করতে পারেননি। সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দাফন করা হয়। এখানে কবর নম্বর উল্লেখ করা নেই। ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, উত্তরের তুলনায় ঢাকা দক্ষিণে কবরস্থানের জায়গা কম। কিন্তু উত্তরের চেয়ে দক্ষিণের জনসংখ্যা কম না। ২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণের কবরস্থান নীতিমালা করা হয়। উত্তরে অস্থায়ী কবরস্থান সংরক্ষণের যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তার তুলনায় দক্ষিণের কম। এজন্য প্রবিধানমালার খসড়া করা হয়েছে। জমা দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এজন্য আপাতত আজিমপুরে বছরভিত্তিক অস্থায়ী কবর সংরক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। অনুমতি পেলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুনর্বিবেচনা করা হবে সংরক্ষণের ফি।



