হাসপাতালে সুচিকিৎসা পেতে হলে পুরো খরচা আপনাকেই বহন করতে হবে; কেননা আপনার সুস্থতার প্রয়োজন।
স্থান থেকে স্থানান্তরিত হতে চাইলে যাত্রা খরচ আপনার হাতে থাকতে হবে, নতুবা নিজের হাতে খেয়ারকড়িনা থাকলে ঘর থেকে বের হওয়া হবে গ্লানি ও দুর্ভোগ্যের কারণ! ক্ষুধাতৃষ্ণা নিবারন করার দায়িত্বে ক্ষুধাকাতর তৃষ্ণার্ত ব্যক্তিকেই দায় বহন করতে হবে, তবে কথা থেকে যায়; সদ্যজাত শিশুদের ক্ষেত্রে উক্ত দায়িত্বগুলো কে বহন করবে। অবশ্যই আপনার পিতামাতা! আছে কি আপনার তেমন দরদী বাবা–মা? শিশু তাকিয়ে থাকে মায়ের আখি পানে, প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আওয়াজ করে, চিৎকার করে, প্রাণ প্রতীম মা বুঝতে পারে, শুনতে পায়, কাছে ছুটে আসে, তুলে নেয় আপন কোলে।
কথায় বলে সন্তান বাবার উত্তরাধিকারী। বিশেষ কোনো দলিল দস্তাবেজের প্রয়োজন পড়েনা তেমন সম্পত্তির ভোগ দখল করার জন্য। যে সন্তান মনে মনে নিজেকে কেউকেটা ভেবে বসে আছে, কোনো কুমতলব এঁটে বসেছে, তেমন সন্তানই তাগিদ দিয়ে থাকে উইল করার জন্য, আলাদা দলিল করার জন্য, যেন পরবর্তী সময়ে উক্ত দলিলের বলে পৈত্রিক ভিটামাটি দখল নিতে পারে। মানুষ আসলে বরাবরের মত বোকা ও দুষ্টরয়ে গেছে।
শুরুতে সুচিকিৎসার প্রসঙ্গে যে কথা বলেছি তা হলো, আপনি জানেনকি, কে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন, কার সাথে মিল রেখে আপনি সৃষ্ট? কার প্রতিনিধিত্ব আপনাকে করতে হবে? আপনি যদি কারিগরহয়ে থাকেন, নতুন কোনো দ্রব্য নির্মাণ করার সময়ে আপনি অবশ্যই খুঁজে ফিরবেন একটি ‘নমুনা’ যার মত করে আপনার নতুন নির্মিত দ্রব্যটি তৈরি করবেন। নমুনার সাথে মিল রেখেই আপনাকে সৃষ্টি করতে হবে, অন্যথায় আপনার শ্রম ব্যর্থ হয়ে যাবে যে। চুক্তিনামা অনুযায়ী কাজ করে থাকলে কোন দোষে আপনার বিল আটকে যাবে, আপনার শ্রম নিষ্ফল হবে? আপনাকে অবশ্যই নমুনা কপি অনুসারে নির্মাণ করতে হবে।
পরমকরুনাময় খোদা আপন সুরতে ঐশি গুনাবলি দিয়ে আপনাকে নির্মাণ করেছেন। চলার পথে কেবল তারই ভাবমূর্তী বহন করবেন, অদৃশ্য খোদার দৃশ্যমান নমুনা হলেন আপনি। কেবল আপনি হলেন অদৃশ্য খোদার দৃশ্যমান প্রতিনিধি!
চলার পথে মানুষ হোচট খায়, দিকহারা, খর¯্রােতা নদীতে প্রচুর ঘূর্ণিপাক বাজলাবর্ত সৃষ্টি হয়; যা দেখে শুনে অতিসাবধানে চলতে হবে, একটু ভুল হয়ে গেলে আপনার জলযান জলের অতলে তলীয়ে যাবেন, কেউ আপনার চুল পর্যন্ত দেখবেনা! সাবধান! দেখে শুনে পথ চলুন।
জীবন পথে চলারজন্য,আপনার নমুনা নির্দেশনা অবশ্যই দিবে আপনাকে চেতনা, প্রেরণা, নির্দেশনা, যেন সঠিক পথে স্থির থেকে পৌছে যেতে পারেন কাঙ্খিত লক্ষ্য বিন্দুতে। গোটা বিশ্ববাসির জন্য তেমন জীবন পুস্তক বা দিক–নির্দেশনা হতে পারে, দশ শরীয়ত বা দশ আজ্ঞা। অতীত বা বর্তমান বিশে^ যতগুলো নির্দেশনা অদ্যাবধি সৃষ্টি হয়েছে, কোনোগ্রন্থ উক্ত দশ আজ্ঞাকে এড়িয়ে যেতে পারেনি।
অবশ্য হীন স্বার্থের কারণে মানুষ স্বজন প্রিয়জন ভিটে ছাড়া করতে দেখেছি, দেখেছি আপন পিতা মাতাকে বলি দিতে। উম্মাদের দৃষ্টান্ত আমি টানতে চাইনা এক্ষেত্রে; আজ আমাদের ফিরে তাকাবার সময় এসেছে। নমুনার সাথে পুনরায় মিলিয়ে দেখতে হবে। আমাদের জীবনমান, ধ্যান–মনন, প্রভাব, প্রতিফলন স্বভাব আচরণ কি খোদার সাথে সমন্বয়সাধন করে চলছে, না তার আজ¤্র শত্রæ অভিশপ্ত ইবলিসের আচরণ অপিম্পা বাস্তবায়ন করে ফিরছে। আমরা কি বর্তমানে কোনো মারাত্মক ঘোলকাবর্তে দৃষ্টিহারা বিবেকহারা অবস্থায় ক্রমান্বয়ে পাতালের অতলে ডুবে যাচ্ছি; দশ শরীয়ত যা হলো একমাত্র অকাট্য জীবনবিধান, তার সাথে আজ আমাদের চাল–চলনের কর্মকান্ডের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাবে কি; না আমরা কেবল ইবলিসের খাস নোমায়েন্ধা হয়ে গোটাবিশ্ব ত্রাসিত তটস্থ করেচলছি।
খোদা আমাদের নমুনা; আমাদের অবশ্যই তাঁর মত করে চলতে হবে। তিনি যেহেত ুঅদৃশ্য পরমপূজনীয়সত্ত¡া, তাই আমাদের প্রয়োজন দৃশ্যমান অবিকল নমুনা, যিনি কথায়, কাজে, প্রেম, ক্ষমায় ঐশি কুদরত প্রকাশে অবশ্যই হবেন খোদার দৃশ্যমান প্রকাশ।
আপনি কি কখনো শুনেছেন তেমন কোনো ব্যক্তির কথা? যিনি আদমের বীর্যস্খলিত গুনাহগার কোনো সন্তান নন, যাকে খোদা নিজেই সৃষ্টি করেছেন এক কুদরতের বলে। তিনি হলেন খোদার জীবন্ত কালাম ও পাকরূহ কুমারী মরিয়মের গর্ভজাত সন্তান। যাকে অধিকাংশ লোক ঈসা মসিহ বলে অভিহিত করে থাকে। তবে সকলেই তাকে জানে, জগতে আগত, মানব কুলে একমাত্র বেগুনাহ ব্যক্তি হিসেবে। যিনি কারো কোনো ক্ষতি করেন নি, বরং ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে নিজের পূতপবিত্র জীবন কোরবান দিলেন। জগতের পাপের প্রায়শ্চিত্ত শোধ দিতে তিনি ঝড়িয়েছেন স্বীয়রূধীরধারা। সবকিছুই তিনি করেছেন বিশ্বমানবের প্রতি নিখাদ নিরঙ্কুষ নিরবচ্ছিন্ন অতুল সীমাহিন প্রেমের কারণে।
আপনি যদি সম্পূর্ণ বেগুনাহ জীবন যাপন করতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই আপনাকে সাহায্য পেতে হবে একমাত্র মসিহের কাছ থেকে। তিনি উদাত্ত আহŸান ঘোষণা দিয়েছেন জগতের সকল পরিশ্রান্ত, ভারাক্রান্ত আশাহত মুষড়ে পড়া মানুষের কাছে, যেন আবার তারা মানুষের মত মানুষ হতে পারে; বয়ে আনতে পারে খোদার মহিমা। কালামপাকে তাই যথার্থ বর্ণীত রয়েছে (২করিন্থীয় ৫ : ১৭–২১)।
কেবল হৃদয়ের নিখাদ বিশ্বাসের দ্বারা ঐশি শক্তির বলে আপনি হতে পারলেন এক নবীনসৃষ্টি, নতুন আরশী, প্রতিফলন ক্ষমতা সমৃদ্ধ নতুন দর্পন, আপনারম ধ্য থেকে যাবতীয় পুরানো পুঁতি গন্ধময় স্বভাব আচরণের হয়েছে অপসারণ। আপনি মসিহ ও মহান খোদা আজ সমাসীন একই দরবারে



