সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের টাকা ফেরতের বিশেষ স্কিমের খসড়া প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানত বীমা তহবিল থেকে প্রথম ধাপে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার পর তিন মাস অন্তর এক লাখ টাকা তোলা যাবে। এ জন্য পাঁচ ব্যাংকের কাছে আমানতকারীর ২৭ ধরনের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই তথ্য পাওয়ার পর প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত স্কিম ঘোষণা করা হবে। সূত্র জানিয়েছে, আমানত বীমা তহবিল থেকে প্রত্যেক আমানতকারীকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়ের ক্ষেত্রে কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ একটি ব্যাংকে একই ব্যক্তির একাধিক অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের টাকা থাকলেও দুই লাখ টাকার বেশি দেওয়া যাবে না। বিষয়টি এমন– কারও হয়তো গুলশান শাখায় অ্যাকাউন্ট দুই লাখ টাকা আছে। তারই চট্টগ্রাম শাখায় আরেকটি হিসাবে পাঁচ লাখ, খুলনা শাখায় সাত লাখ টাকা জমা আছে। তিনি আমানত বীমা তহবিল থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পাবেন। এটা নির্ধারণের কাজ শেষ হলে টাকা ছাড় করা শুরু হবে। জানা গেছে, যাদের হিসাবে দুই লাখ টাকা বা তার কম রয়েছে, তারা স্কিম ঘোষণার পর সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। আর যাদের হিসাবে এর বেশি রয়েছে, প্রথম ধাপে দুই লাখ টাকার পর প্রতি তিন মাস পরপর এক লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে ৬০ বছরের বেশি বয়সী আমানতকারী ও ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত গ্রাহকের ক্ষেত্রে এ বিধান শিথিল থাকবে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো পরিমাণ টাকা তুলতে পারবেন।
পাশাপাশি এসব ব্যাংকের জন্যও একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো যেতে পারে। সাধারণ ক্ষেত্রে এই সীমা দেওয়ার প্রধান লক্ষ্য হলো, সবাই যেন টাকা তুলতে হুমড়ি খেয়ে না পড়ে।
শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক মিলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি করা হয়েছে। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের মধ্যে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার দেওয়া হবে। পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা আছে। এর বিপরীতে ঋণ রয়েছে এক লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে গড়ে ৭৭ শতাংশ ঋণখেলাপি।
গতকাল মঙ্গলবার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার সঙ্গে প্রশাসকদের একটি পরিচিত সভার আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, চার ডেপুটি গভর্নরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সাত সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে আরও আছেন লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রাশেদুল আমীন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ।



