চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ১৮টি চা বাগান নতুন কুঁড়িতে ভরপুর। একটি কুঁড়ি দুটি পাতা ১৮টি চা বাগানে এখন ফটিকছড়ি সৌন্দর্যে ও সমৃদ্ধে গড়া। এ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিনিয়ত পর্যটকের রয়েছে যাতায়াত। বাগানের শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারিভাবে প্রতি বছর ৬ হাজার টাকা করে ৩৭৬৫ জন শ্রমিককে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে টাকা প্রদান ও শ্রমিকের বিদ্যালয়মুখী ছেলেমেয়েদের উপবৃত্তি এবং শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের উদ্যোগও গ্রহণ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। তা ছাড়া উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গ্যাস লাইন থেকে বারমাসিয়া চা বাগান ও নেপচুন চা বাগানে শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। রাঙ্গাপানি চা বাগানেও গ্যাস সংযোগ নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন। তবে ফটিকছড়ির অধিকাংশ বাগানে এখনও গ্যাস সংযোগ নেই– এটি সবচেয়ে বড় সংকট। বাগানগুলো গ্যাস সংযোগ পেলেই উৎপাদন খরচ কমবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। প্রতি বছর ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে চা গাছের কাটিং করা হয়, আর উৎপাদন বন্ধ থাকে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি থেকে গাছে কুঁড়ি আসে, মার্চে পাতা উত্তোলন শুরু হয়। সরেজমিন দেখা যায়, ফটিকছড়ির রামগড়, আঁধার মানিক, নাছেহা, দাঁতমারা, নিউ দাঁতমারা, মা–জান, নেপচুন, পঞ্চবটি, মুহাম্মদ নগর, হালদা ভ্যালী, এলাহী নুর, রাঙ্গাপানি, বারমাসিয়া, উদালিয়া, খৈয়াছড়া, আছিয়া, চৌধুরী ও কর্ণফুলী ১৮টি চা বাগানই আপন সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ। চা পাতা উত্তোলনের অপরূপ দৃশ্য, নজরকাড়া বাংলো এবং চা বাগানের যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ।
সবকিছু মিলিয়ে এসব চা বাগানকে পর্যটন শিল্পের আওতায় নিয়ে আসা যায়। পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তুলতে যে বাগানগুলোর অবকাঠামো সুযোগ–সুবিধা রয়েছে সেগুলো হলো এশিয়ার সর্ববৃহৎ কর্ণফুলী চাগান, উদালিয়া চা বাগান, নেপচুন চা বাগান, কৈয়াছড়া চা বাগান, মা জান চা বাগান ও রামগড় চা বাগান। প্রতিটি চা বাগানের পাশাপাশি বিভিন্ন ঔষধি, ফলদ, বনজ বৃক্ষের বাগান গড়ে উঠছে ও অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গায় লেক তৈরি করে মাছ চাষসহ সবকিছু মিলিয়ে বাগানগুলো আকর্ষণীয়। প্রাকৃতিক দৃশ্যের দর্শনীয় স্থান থানা সদর থেকে ৫ কিমি পূর্বে লেলাং ইউনিয়নে অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তর কর্ণফুলী চা বাগান। এই বাগান নানা পরিকল্পনার মাধ্যমে অনেক উন্নতি সাধন করে প্রতিনিয়ত আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। আরেক অপরূপ দর্শনীয় স্থান রামগড় চা বাগান, এই বাগানের চর্তুদিকে পাহাড়ি বনাঞ্চল হওয়ায় বাগানের অপরূপ মনোরম দৃশ্যে ভরপুর। এসব চা বাগানে অনেক দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা রয়েছে।
প্রতিটি চা বাগানের ভেতর অসংখ্য সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনোরম পরিবেশ ঘুরে বেড়ানো যায়। তা ছাড়া লেকে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ও চা বাগানের পাশাপাশি নানা প্রজাতির বাগান মনোমুগ্ধকর। রাঙ্গাপানি চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উৎপল বিশ্বাস বলেন, এ বছর বাগানে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ৫০ হাজার কেজি। হলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, পর্যটনশিল্প বিকশিত হবে এবং আশপাশের এলাকা উন্নত হবে। কর্ণফুলী চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফি আহমেদ খান বলেন, এশিয়ার সর্ববৃহৎ কর্ণফুলী চা বাগান প্রতিবছরই উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার আবু সালেহ বলেন, বাগানের ভেতরে যেসব জায়গা অনাবাদি আছে, সেগুলোতে বাগানের শ্রমিকরা যাতে চাষাবাদ করতে পারে সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি নিরঞ্জন নাথ মন্টু বলেন, শ্রমিকের পরিশ্রমে বাগানে চা উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হলে ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি হয় না। উৎপাদন বেশি বা কম হলে শ্রমিকদের একই মজুরি দিচ্ছে, এটা তো বৈষম্য। বাগানের মালিক পক্ষের অতীতের অনেক প্রতিশ্রুতি এখনও ঝুলে আছে। এগুলো বাস্তবায়ন করলে উভয় উপকৃত হবে।



