শীতের আগমনে খুলনার বিল–খাল–জলাশয়ে অতিথি পাখির দল আসতে শুরু করেছে। যেমন এরই মধ্যে তেরখাদা উপজেলার নাচুনিয়া, ইন্দুহাটি, আড়কান্দি, বাসুখালী বিলে অতিথি পাখিসহ কালকুচ, হাঁসডিঙি, ডুঙ্কর, কালো হাঁস, ভুতিহাঁস, জলপিপি, কুড়া শামুখখোলা পাখির আগমন ঘটেছে। কিন্তু চোরা শিকারিদের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে এ আগমন। তারা অনেকটা বেপরোয়ভাবেই পাখি শিকার করছেন। পাশাপাশি আটক করা পাখির বেচাকেনাও চলছে প্রায় প্রকাশ্যে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ইখড়ি, কাটেংগা, বারাসাত, নলামারা, হাড়িখালী বিলে শিকারিরা বিষটোপ, ফাঁদ ও ভ্যাপের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে পাখি শিকার করছেন। পরে এগুলো বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, এবার খুলনার শহরতলির বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া উপজেলায় আগের মতো শীতের পাখি আসেনি। তবে রূপসা, ফুলতলা, দাকোপ, কয়রার বিভিন্ন বিলে–খালে অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। কয়েকজন শিকারির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীতের শুরুতে অবাধেই পাখি ধরা শুরু হয়। তবে এবার পাখির সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় দামও পাওয়া যাচ্ছে অনেক বেশি। যেমন ডঙ্কুর ৩৫০–৪০০, জলকচু ৩০০, হাঁস পাখি ৩০০–৪০০, আলতি পাখি প্রতিটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বটিয়াঘাটা পাখি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য অলকেশ কুমার সরকার বলেন, ‘শিকারিদের প্রতিহত করতে ধান খেত পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। থানা পুলিশের সহযোগিতায় এ কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে।’ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগও দাবি করছে, তারা নগরীর খালিশপুরের দেশিবিদেশি পাখি বিক্রির অস্থায়ী বাজার উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে গাড়িতে করে শিকার করা অতিথি পাখি ঢাকায় নেওয়ার পথে আটকও করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ খুলনার বিভাগীয় কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, ‘অতিথি পাখি শিকার করলে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিকার বন্ধে শাস্তি উল্লেখ করে প্রচার চালানো হচ্ছে। বিল এলাকাগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।’


