সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলছিয়া গ্রামে প্রকৃতির এক বিস্ময়কর দৃশ্য যেন নীরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। বহুদিনের অনাদর–অবহেলার মাঝেও ফুটে থাকা কস্তুরী ফুল এখন স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়রা জানান, গ্রামটির পরিত্যক্ত জমি, ঝোপঝাড় আর ভুলে যাওয়া প্রান্তরেই এই ফুলের দেখা মেলে বেশি। কোনোরকম পরিচর্যা বা বিশেষ যত্ন ছাড়াই কস্তুরী ফুল এমনভাবে ফুটে থাকে যে, গ্রামের ভোরবেলায় বাতাসে এর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের প্রবীণদের ভাষায়, “এ ফুলের জন্ম হয় অবহেলায়, কিন্তু সৌন্দর্য—রাজপ্রাসাদের মতো!” ইছামতি নদীর ভিতরে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কস্তুরী ফুলের এই বিস্তার প্রকৃতির সেই চিরন্তন বার্তাই স্মরণ করিয়ে দেয়—অবহেলিত জিনিসেও লুকিয়ে থাকে অসাধারণ সৌন্দর্য। শুধু দেখার চোখ থাকলেই মানুষ সেই সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারে। গ্রামের কাঁচা রাস্তা ধরে হাঁটলে যেন মনে হয়—প্রকৃতি নলছিয়ার বুকেই গোপনে এক শিল্পালয় তৈরি করে রেখেছে। কস্তুরী ফুলের সাদা পাপড়ি আর মৃদু সুবাস স্থানীয় মানুষের দিনকে করে তোলে স্নিগ্ধ ও প্রশান্ত। স্থানীয়রা দাবি করেন, যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করা হলে এই ফুল পর্যটন–আকর্ষণের সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কৃষি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হলে কস্তুরী ফুলের প্রাকৃতিক বিস্তার পর্যটনসহ নানা সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।



