একের পর এক ক্যাচ মিস আর হাস্যকর ভুলে নির্ধারিত ওভারের খেলায় নিশ্চিত জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করেছিল বাংলাদেশ। সুযোগ পেয়ে ম্যাচ টাই করে নেয় ভারত। তবে লাল সবুজদের আক্ষেপে পুড়তে দেননি পেসার রিপন ম–ল। সুপার ওভারে দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে দলকে সহজ জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। যদিও সেখানেও ছিল নাটকীয়তা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য জয় পেলো লাল সবুজরাই। এতে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস তথা এমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। গতকাল সন্ধ্যায় কাতারের দোহায় ওয়েস্ট অ্যান্ড পার্ক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে ভারত ‘এ’ দলকে সুপার ওভারে হারায় তারা। আগামীকাল ফাইনালে পাকিস্তান অথবা শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে লাল সবুজের দল। যদিও নিজেদের একের পর এক ভুলের খেসারত দিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে যাবার সুযোগ হাতছাড়া করছিল বাংলাদেশ। জয়ের দ্বারপ্রান্তে যাবার পরও অধিনায়ক আকবরের ভুলে সমান ১৯৪ রান করে ম্যাচ টাই করে ফেলে ভারত। ফলে ম্যাচ চলে যায় সুপার ওভারে। সেখানে লাল সবুজদের সব আক্ষেপ পুষিয়ে দেন পেসার রিপন ম–ল। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে যিনি ছিলেন বাংলাদেশের মূল ভরসা ও সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। প্রথম বলে ইয়র্কার ডেলিভারিতে বোল্ড করেন জিতেশ শর্মাকে। প্রায় একই লেংথের তার দ্বিতীয় বলে তুলে মারতে গিয়ে অফে ধরা পড়েন আশুতোষ। সুপার ওভারের মতো উচ্চচাপে যা প্রায় অপ্রত্যাশিতই বলা যায়।
নিয়ম অনুযায়ী ২ উইকেট পড়ায় বাকি ৪ বল আর খেলতে পারেনি ভারত। তাতে টাইগারদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১ রানের। সেখানেও হতাশা তৈরি করেন ইয়াসির আলী। যেখানে দলের প্রয়োজন মাত্র এক রান, সেখানে ইয়াসির আলী বেছে নিলেন ছক্কা মারার আত্মাহুতির ঝুঁকিপূর্ণ পথ। লংঅনে তোলা শটটি সোজা ফিল্ডারের হাতে জমা পড়তেই বাংলাদেশ পড়ে যায় উদ্বেগে। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বোলার সুয়াশ শর্মার এক ওয়াইড বলেই জয় নিশ্চিত হয় টাইগারদের। শিরোপার মঞ্চে পা রাখার মিশনে বাংলাদেশের সামনে ছিল বড় পুঁজি। তবে চারটির বেশি ক্যাচ মিস করে ভারতের রাস্তাটা সহজ করে দিয়েছিল ফিল্ডাররা। আর শেষ ওভারে তো ঘটে বড় নাটকীয়তা। শেষ ৬ বলে ভারতের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৬ রান। টাইগারদের হয়ে বল করতে আসেন রাকিবুল হাসান। ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১৭৯ রান করা ভারতের হয়ে তখন ক্রিজে নেহাল ওয়াধেরা ও আশুতোষ শর্মা। প্রথম দুই বলে দুটি সিঙ্গেল নেয়ার পর তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকান আশুতোষ। চতুর্থ বলে ফের স্ট্রেইটে তুলে মারেন এ ব্যাটার। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার জিসান আলমের হাতেই বল পড়েছিল। কিন্তু তিনি তালুবন্দি করতে পারেননি, উল্টো তার হাত ফস্কে বাউন্ডারি হয়ে যায়। শেষ দুই বলে দরকার পড়ে মাত্র ৪ রানের। সেখানে বাজিমাত করেন রাকিবুল। এ স্পিনারের ইয়র্কার লেংথের বলে বোল্ড হন আশুতোষ। শেষ বলে ব্যাটে ঠিকঠাক সংযোগ করতে ব্যর্থ হন হার্শ দুবে। ফিল্ডাল বল ছুড়ে মারার আগে দুইবার প্রান্ত বদল করেন দুই ব্যাটার। তবে ফিল্ডার থেকে পাওয়া বল স্টাম্পে লাগাতে গিয়ে মিস করেন আকবর আলী। সে সুযোগে আরো একটি রান নিয়ে ম্যাচ টাই করে নেয় ভারত।
অথচ আকবর হাতে রেখে বল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও বাংলাদেশ ১ রানের জয় নিশ্চিত করতো। ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। এর আগে, টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বৈভব সূর্যবংশির ভারত। ব্যাটিং–এ নেমে শুরুটা বেশ দুর্দান্ত ছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। আসরে দারুণ পারফর্ম করা হাবিবুর রহমান সোহানের ৬৫ রানের পর ছয়ে নামা মেহরবের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ভারতকে চাপে ফেলেছে বাংলাদেশ। জিসান আলমকে সাথে নিয়ে করা তার ওপেনিং জুটিতে ৪.২ ওভারেই আসে ৪৩ রান। জিসান আউট হন ১৪ বলে ২৬ রান করে। এরপর দ্রুত আরো বেশ কিছু উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলছিলেন সোহান। তিনি ৪৬ বলে ৬৫ রান করে আউট হয়ে যান। যদিও তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি জাওয়াদ আবরার, আকবর আলী ও আবু হায়দার রনিও। ব্যর্থ হয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও। শেষদিকে ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের রান ১৯৪ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন মেহেরব ও ইয়াসির রাব্বি।



