অষুধের ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন একদল স্থায়ী রোগী যারা তাদের কাছ থেকে অষুধ নিয়মিত করবে ক্রয়। ডাক্তারদের কাছে রোগীদের কোনো প্রশ্ন করা চলবে না। একটি মজার গল্প আছে চালু, পুত্রের কাছে পিতার রোগের বিষয় জানতে চাইলে সে জবাব দিল, ‘জানিনা অসুধে যে কী হচ্ছে, তবে আগে হাগত বাঁশ তলায় আর এখন হাগে ঘরে, ক্রমেক্রমে সরে।’
দেশ জনতার দিকে তাকালে তেমন অবস্থাটাই চোখে পড়ে। মানুষে মানুষে অমিল দলাদলি, ঘুষ–দুর্নীতি, কালোবাজারি উত্তরোত্তর বেড়েই চলছে। একই আদম সন্তান অথচ ইতোমধ্যে হাজার প্রকার ভাগে বিভক্ত ও বিবদমান তারা। মাত্র একটি বিশ্ব কত ভাগে যে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে তার সঠিক হিসেব–নিকেশ কে জানে? গভীর জঙ্গল বা প্রত্যন্ত দ্বীপগুলোতে কত লোকের যে বাস রয়েছে তার হিসেবই বা কে রাখে।
একজন সুস্থ মানুষকে অতিরিক্ত অষুধ খেতে বাধ্য করা হলে সে যেমন অসুস্থ হয়ে পড়ে, পড়তে বাধ্য, তদ্রƒপ কোনো এক ব্যক্তির ওপর বহনের অসাধ্য চাপ ও উদ্বেগ তুলে দেয়া হয় তবে সেও মানসিকভাবে অসুস্থ হতে বাধ্য। ধর্মের নামে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠি কী করে ফিরছে তা একবার ক্ষতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, ধর্ম বর্তমানে কতিপয় ব্যক্তিবর্গের কাছে অত্যন্ত লোভনীয় আর্থিক কর্মকান্ডে হয়েছে পরিণত। যথা তীর্থ ভ্রমণের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে প্রতি বছর। অথচ ব্যক্তিকে ধার্মিক হবার জন্য তীর্থ ভ্রমণের কোনোই প্রয়োজন পড়ে না। মজার বিষয় হলো, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের আয় না হলে ওই ব্যক্তির উপর করারোপ করা চলে না, ঠিক তেমনই ব্যক্তির যখন অগাধ উপার্জন হতে থাকে ঠিক তখনই তীর্থ ভ্রমণ তার জন্য জরুরী হয়ে দাঁড়ায়। তীর্থ ভ্রমণ হলো শর্ত সাপেক্ষ এবং এ শর্তটি আরোপ করেছে জগতের মানুষগুলো অর্থাৎ ধর্ম ব্যবসায়ীর দল। গোটা বিশ্ববাসি পাপের পংকে যখন ডুবন্ত ঠিক তখনই ধর্মেরবাণী হয়েছে ঘোষিত, যাকে মুক্তির বাণী বা নাজাতের বার্তা বলা হলে ভুল হবে না। উশৃঙ্খল বিশ্রিঙ্খল মানুষগুলোকে শান্তির শীতল ছায়াতলে একত্রিত করার জন্যই ধর্মের বাণী হয়েছে প্রদত্ত ও ঘোষিত! তেজারতিকরার জন্য অবশ্যই নয়।
মানুষকে বোঝামুক্ত চিন্তামুক্ত অভিশাপ মুক্ত পাপমুক্ত করার জন্য ধর্মের বাণী হয়েছে প্রদত্ত, যা পরম করুনাময় আল্লাহপাকের কাছ থেকে এসেছে। প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠি ভাষাভাষী ঐশী নির্দেশনা সমভাবে পাবার যোগ্য এবং তা নিজ নিজ ব্যবহৃত ভাষায় সহজভাবে শুনতে ও জানতে পারাটাই হবে ফলপ্রসু। কিন্তু প্রতারকচক্র কী করে চলছে। আপনি বিষয়টি নিয়ে একটু ভেবে দেখুন। ডাকাত বলে কয়ে লুটে নেয় আর ধর্ম ব্যবসায়ীরা মানুষের চোখ এমনভাবে বেধে রেখেছে, কুলুর বলদের মতো সকাল সন্ধ্যা সাজানো বর্তুলে ঘুরতে থাকে। মন্ত্রের অর্থই যদি বা না বুঝলো তবে মন্ত্রপাঠে কতোটা মনোযোগ আসতে পারে? এ যেন ঠাকুর মন্ত্র পড়ে চলছে আর বলির পাঠা ব্যস্ত স্বভাবজাত কর্মে। ভন্ড প্রতারকদের বিরুদ্ধে আজ আমাদের প্রতিবাদে সোচ্চার হবার সময় হয়েছে। আমাদের সচেতন হবার দরকার।
আল্লাহপাক হলেন মহব্বত। মহব্বতের তাগিদে তিনি মানুষকে রক্ষা করেছে, মানুষের কৃত পাপের কাফফারা পরিশোধ করার ব্যবস্থা তিনি নিজেই এক অভিনব ব্যবস্থা স্থাপন করেছেন। মানুষের পক্ষে যা ছিল অসম্ভব আল্লাহপাক এক বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে তা সম্পন্ন করেছেন, আর তার তেমন উত্তম অভাবিত অতুলনীয় রহমতের ব্যবস্থা হলো, খোদাবন্দ হযরত ঈসা কালেমাতুল্লাহ। যিনি হলেন মানব জাতির প্রতি এক বিশেষ রহমত। এ কারণে বলা হয়েছে, ‘খোদার রহমতে ঈমানের মধ্য দিয়ে তোমরা নাজাত পেয়েছ। এটা তোমাদের নিজেদের দ্বারা হয় নি, তা আল্লাহরই দান। এটা কাজের ফল হিসাবে দেওয়া হয় নি, যেন কেউ গর্ব করতে না পারে। আমরা আল্লাহর হাতে তৈরি। আল্লাহ ঈসা মসিহের সঙ্গে যুক্ত করে আমাদের নতুন করে সৃষ্টি করেছেন যাতে আমরা সৎ কাজ করি। এই সৎ কাজ তিনি আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন, যেন আমরা তা করে জীবন কাটাই। (ইফিষীয় ২ : ৮–১০)



