বিদ্যালয়ের মাঠে কালো রঙের প্রাণী দেখে স্থানীয়রা সেটিকে ধরে ফেলেন। এরপর শুরু হয় টানাহেঁচড়া, লাঠিপেটা। পড়ে মারা গেছে ভেবে ফেলা রাখা হয়। খবর পেয়ে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিমের প্রতিষ্ঠাতা সহিদুল ইসলাম এসে প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেন। এ যাত্রায় বেঁচে গেল মানুষের নির্মমতার শিকার মহাবিপন্ন বনরুইটি। গত সোমবার রাতে বোদা উপজেলার ঝলই শালশিরি ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ এলাকা থেকে মহাবিপন্ন বনরুইটি উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে বন বিভাগের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাতে নজিরতন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দেখা যায় কালো রঙের প্রাণীটিকে। অদ্ভুত প্রাণীটিকে দেখে ভয় পেয়ে তাড়া করেন স্থানীয়রা। বেদম পিটুনিও দেন। এ পর্যায়ে বনরুই নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকে। খবর পেয়ে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিমের প্রতিষ্ঠাতা ও পঞ্চগড়ের প্রাণী বিশেষজ্ঞ সহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসেন।
তিনি প্রাণীটি বনরুই বলে শনাক্ত করেন। কালো রঙের বনরুইটির দৈর্ঘ্য আড়াই ফুট এবং ওজন প্রায় ছয় কেজি। মহাবিপন্ন প্রাণীটি ঝোপঝাড়ে মাটির গর্তে বসবাস করে। স্থানীয় লোকজন আগে এমন প্রাণী দেখেননি এবং পঞ্চগড়ে বনরুই ধরা পড়ার ঘটনা এটাই প্রথম বলে জানা গেছে। ঝলই শালশিরি এলাকার মহিরুল ইসলাম বলেন, কালিয়াগঞ্জ নজিরতন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কালো রঙের প্রাণীটি দেখতে পাই। কয়েকজন প্রাণীটিকে তাড়া করে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। প্রাণী বিশেষজ্ঞ সহিদুল ইসলাম এসে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেন। সহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে স্কুল মাঠে যাই। দেখি বনরুইটি পড়ে আছে। স্থানীয়রা ভেবেছিলেন, প্রাণীটি মারা গেছে। উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এটি এখন সুস্থ আছে।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা এসে প্রাণীটিকে নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। বন বিভাগ দেবীগঞ্জ রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল করিম মোবাইল ফোনে জানান, বিপন্ন প্রাণী বনরুইটি বর্তমানে সুস্থ ও ভালো আছে। এটিকে ঢাকা বন বিভাগে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সুবিধাজনক স্থানে অবমুক্ত করতে পারে।



