হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি কেবল রোগীকেই পরীক্ষা করে না, বরং তার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী মোট কথা তার চৈদ্দ খান্দানের হিসেব নিকেশ করে তবে ঔষধ প্রয়োগ করে। রোগী সুস্থ হোক বা ভিন্ন কিছু হোক, তবে পদ্ধটিটি কিন্তু বিষবৃক্ষের মূলোৎপাটন করার সমতুল্য।
ধর্মীয় ক্ষেত্রে এ রীতি প্রয়োগ করা হলে আপাতত: মনে হবে বেশ ভালই হচ্ছে, আসলে তাতে গুনাহগারদের জন্য কোনো ফায়দাই বহন করছে না; কেননা মানবজাতির প্রথম মানুষ আদম নিজেই স্বীয় স্ত্রীর পরামর্শ, অনুরোধ উপরোধে ধরা খেয়ে খোদার নিষেধ ভঙ্গ করে হলেন এদন-কানন থেকে বিতাড়িত। আদমের ঔরষজাত প্রত্যেকটি ব্যক্তি বহন করে ফিরছে অবাধ্যতার রক্তধারা যার প্রমাণ পাবেন মানুষের দ্বারা মানুষ হচ্ছে নিষ্পেষিত নিগৃহীত। মানুষ মানুষকে খুন করে আসছে আদমের যুগ থেকে। এটা কোনো নতুন প্রথা নয়। তাই হোামিওপ্যাথি ওষুধ প্রয়োগের জন্য চৈদ্দখান্দান সার্ভে করার মত কিছুই নেই মানুষের দ্বারা কৃত পাপ অপরাধের খতিয়ান পেতে। কালামপাকে সোজা সাপটা বর্ণনা রয়েছে, সকলে পাপ করেছে এবং খোদার গৌরব নষ্ট করেছে। পাইকারীহারে সকলেই পদস্খলি মাবুদের প্রেম ক্ষমা ব্যতীত আদম জাতির মুক্তির উপায় নেই।
মানুষ নিজেদের অবস্থান জানে, তাদের জীবনাচরণ একদিকে খোদাদ্রোহী আর পরষ্পরের ক্ষতিকারক কর্মে সকলেই সিদ্ধহস্ত। খোদা স্বীয় প্রতিনিধি মানুষ সৃষ্টি করলেন, শুধু কি তাই, নিজের সাথে মিল রেখে তিনি তাকে (আদম) সৃষ্টি করলেন, মানুষের রোগনির্ণয় করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আমরা সকলেই জটিল-কুটিল রোগে আক্রান্ত, আর সেই রোগ হলো পাপ, আদি পাপ, যা আমাদের উত্তরাধীকার সূত্রে পাওয়া। কেবল খোদার পক্ষেই সম্ভব আমাদের রোগমুক্তি দান করা। পাপের মাষুল/প্রায়শ্চিত্ত/কাফফারা শোধ দেবার ব্যবস্থা তিনি সম্পাদন করেছেন ধরাপৃষ্টে মানবরূপে আগত ঐশি মানব খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহের মাধ্যমে। তিনি মানবজাতির জন্য হলেন একমাত্র পথ, সত্য ও জীবন। তাকে ছাড়া কোনো গুনাহগারের পক্ষে পিতার সাথে পুনর্মিলন করা সম্ভব নয়। বিশ^বাসির পাপের মাষুল একমাত্র ঈসা মসীহ মরণদায়ী সলীবে আত্মকোরবানির মাধ্যমে পরিশোধ করেছেন।
দেশ গঠন বলুন আর সমাজ সংস্কার বলুন, কোনো রূগ্ন ব্যক্তিকে সংস্কারমূলক কাজে লাগানো সম্ভব নয়। হাসপাতালে সায়িত ব্যক্তি শু¯্রসা পরিচর্যা পাবে, ফলে সে সুস্থ হয়ে কর্মী বাহীনিতে হবে উন্নিত। পাপের তাপে গোটা বিশ^ চরমভাবে আক্রান্ত; চাই তাদের মুক্ত হওয়া এবং পরবর্তী ধাপে সমাজের আর দশটি রোগী সুস্থতার পথে পরিচালনা করা। “তিনিই কিছু লোককে সাহাবী, কিছু লোককে নবী, কিছু লোককে সুসংবাদ তবলিগকারী এবং এক কিছু লোককে জামাতের ইমাম ও ওস্তাদ হিসাবে নিযুক্ত করেছেন। তিনি এঁদের নিযুক্ত করেছেন যেন আল্লাহর সব বান্দারা তাঁরই সেবা-কাজ করবার জন্য প্রস্তুত হয় এবং এভাবে মসিহের শরীর গড়ে ওঠে” (ইফিষীয় ৪ : ১১-১২)।
কালামপাকে অবশ্য মানুষের ধার্মিকতা যে কেবল উলঙ্গতা এবং তারা আসলে উলঙ্গ, তার প্রমাণ দেখা যায় কিতাবুল মোকাদ্দসের প্রথম পুস্তক পয়দায়েশ তৃতীয় অধ্যায়ের ৬-১০ আয়াত সমূহে “স্ত্রীলোকটি যখন বুঝলেন যে, গাছটার ফলগুলো খেতে ভাল হবে এবং সেগুলো দেখতেও সুন্দর আর তা ছাড়া জ্ঞান লাভের জন্য কামনা করবার মতও বটে, তখন তিনি কয়েকটা ফল পেড়ে নিয়ে খেলেন। সেই ফল তিনি তাঁর স্বামীকেও দিলেন এবং তাঁর স্বামীও তা খেলেন। এতে তখনই তাঁদের দু’জনের চোখ খুলে গেল। তাঁরা বুঝতে পারলেন যে, তাঁরা উলংগ অবস্থায় আছেন। তখন তাঁরা কতগুলো ডুমুরের পাতা একসংগে জুড়ে নিয়ে নিজেদের জন্য খাটো ঘাগরা তৈরী করে নিলেন। যখন সন্ধ্যার বাতাস বইতে শুরু করল তখন তাঁরা মাবুদ আল্লাহর গলার আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি বাগানের মধ্যে বেড়াচ্ছিলেন। তখন আদম ও তাঁর স্ত্রী বাগানের গাছপালার মধ্যে নিজেদের লুকালেন যাতে মাবুদ আল্লাহর সামনে তাঁদের পড়তে না হয়। মাবুদ আল্লাহ আদমকে ডেকে বললেন, “তুমি কোথায়?” তিনি বললেন, “বাগানের মধ্যে আমি তোমার গলার আওয়াজ শুনেছি। কিন্তু আমি উলংগ, তাই ভয়ে লুকিয়ে আছি।”
যদিও মানুষ নিজেদের অক্ষমতা, অপারগতা, দুর্বলতা ও অধার্মিকতা লুকিয়ে রাখতে সচেষ্ট, আসলে মানুষের পাপ-অপরাধ-প্রবণতা মাবুদের কাছে দিবালোকের মত প্রতিভাত; এমন কি ব্যক্তির পাপাচার তার সহপথিকদের ও সহকর্মীদের কাছেও কিয়দংশ থাকে অনাবৃত। রোগব্যধি কতদিন আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব?
আপনি আমি ক্লেশে জীবন যাপন করব তা তো প্রেমের পারাবার মাবুদের সহ্য হবার নয়, বরং তিনি আমাদের মধ্যে বিজয়ের আনন্দ দেখতে চান “প্রত্যাশার আল্লাহ তোমাদেরকে ঈমান দ্বারা সমস্ত আনন্দ ও শান্তিতে পরিপূর্ণ করুন, যেন তোমরা পাকরূহের পরাক্রমে প্রত্যাশায় উপচে পড়” (রোমীয় ১৫ : ১৩), “তোমাদের সবরকম ভাবে রহমত করবার ক্ষমতা আল্লাহর আছে, যাতে তোমাদের যা কিছু দরকার তার সবই সব সময় তোমাদের থাকে; আর তার ফলে যেন তোমরা সবরকম ভাল কাজের জন্য খোলা হাতে দান করতে পার” (২করিন্থীয় ৯ : ৮), “আমরা চাই না তোমরা অলস হও; আমরা চাই, যারা ঈমান ও অটল ধৈর্যের দ্বারা আল্লাহর ওয়াদা করা দোয়ার অধিকারী হয় তোমরা তাদের মত হও” (ইব্রানী ৬ : ১১), “ধৈর্য পরীক্ষাসিদ্ধতাকে এবং পরীক্ষাসিদ্ধতা প্রত্যাশাকে উৎপন্ন করে। আর প্রত্যাশা লজ্জার কারণ হয় না, যেহেতু আমাদেরকে দেওয়া পাক-রূহ দ্বারা আল্লাহর মহব্বত আমাদের অন্তরে সেচন করা হয়েছে” (রোমীয় ৫ : ৪-৫)
আমরা যে যেস্থানেই থাকি না কেন, মাবুদের এক্তিয়ারের বাইরে কোথাও পালিয়ে যাবার উপায় নেই। আসমান-জমিন জুড়ে বহাল রয়েছে মাবুদের ক্ষমতা, তার মত আর কেউ নেই, যিনি সর্বাবস্থায় আমাদের অকৃত্রিম প্রেমে জড়িয়ে রেখেছেন। আমরা যে তাঁর প্রতিনিধি, সৃষ্ট হয়েছি তাঁরই হাতে তাঁরই সুরতে! বিষয়টি কতইনা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আমাদের ফিরিয়ে নিতে চান স্বীয় ক্রোড়ে, পৌছে দিতে ব্যস্ত পিতার সন্তান পিতার হাতে। হারিয়ে যাওয়া সন্তান কুড়িয়ে পাবার জন্য মানুষ যদি এতটা ব্যস্ত থাকতে পারে তবে গোটা বিশে^র মালিক কি করে ভুলে যাবেন তার নয়নের পুতুলদের “আমার নামে যাদের ডাকা হয়, আমি যাদের আমার গৌরবের জন্য সৃষ্টি করেছি, যাদের আমি গড়েছি ও তৈরী করেছি, তোমরা তাদের প্রত্যেককে নিয়ে এস” (ইশাইয়া ৪৩ : ৭)।
অন্ধ যখন পুনরায় দেখার শক্তি (জ্যোতি) ফিরে পায়, তখন সে থাকে আনন্দে আপ্লুত, সবকিছু দেখার জন্য আকুলীত হয়ে ওঠে ঠিক একভাবে, মরণ ব্যধির কবল থেকে কেউ যখন সম্পূর্ণ সুস্থ সবল হয়ে ওঠে, তখন তার মনেও থাকে গোটা দুনিয়া চষে বেড়ানোর ব্যকুলতা; ঠিক একইভাবে কেউ যখন সুনিশ্চিত হলো, তার সকল পাপ অপরাধ সম্পূর্ণ ক্ষমা করা হয়েছে, ওগুলো নিয়ে তাকে আর পস্তাতে হবে না, তখন উক্ত ব্যক্তি হয়ে ওঠে সত:স্ফুর্ত, যিনি তার জন্য পাপের কাফফারা পরিশোধ দিয়েছেন, কেবল তারই সাথে সহমর্মীতা ও সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হন অভ্যস্থ। “আমি, আমিই আমার নিজের জন্য তোমার অন্যায় মুছে ফেলি; আমি তোমার গুনাহ্ আর মনে আনব না” (ইশাইয়া ৪৩ : ২৫)
খোদার রহমতে আজ আমরা মুক্ত। “আল্লাহর রহমতে ঈমানের মধ্য দিয়ে তোমরা নাজাত পেয়েছ। এটা তোমাদের নিজেদের দ্বারা হয় নি, তা আল্লাহরই দান। এটা কাজের ফল হিসাবে দেওয়া হয় নি, যেন কেউ গর্ব করতে না পারে। আমরা আল্লাহর হাতের তৈরী। আল্লাহ মসিহ ঈসা সংগে যুক্ত করে আমাদরে নতুন করে সৃষ্টি করেছেন যাতে আমরা সৎ কাজ করি। এই সৎ কাজ তিনি আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন, যেন আমরা তা করে জীবন কাটাই” (ইফিষীয় ২ : ৮-১০)