৭ই মার্চ ১৯৭১
বাংলা সাহিত্যের নয়,
বাঙালী জাতির,
মহাকাব্য সৃষ্টির মাহেন্দ্রক্ষণ।
কাগজে কলমে নয়,
এ মহাকাব্য লেখা হয়েছিল,
সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালীর,
পবিত্র বজ্রকন্ঠ কালি দিয়ে,
সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর,
তপ্ত হৃদয় পটে।
৭ই মার্চের অগ্নিঝরা বিকেলে,
রেসকোর্সের জনসমুদ্রের,
মহামঞ্চ থেকে,
কাব্যবিজ্ঞের উচ্চারণের,
প্রতিটি শব্দ ছিল,
মজলুম বাঙালী জাতির,
একান্ত অন্তরের অভিব্যক্ত।
স্বাধীনতা সংগ্রামের,
প্রস্ততি ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।
আর—
বিজাতি বর্বর পাকিস্তানি,
শাসকগোষ্ঠীর জন্য তা ছিল,
এক একটা দাঁতভাঙা কুঠারাঘাত।
৭ই মার্চের মহামন্ত্রের প্রেরণা,
বুকে ধারণ করেই,
বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ভাবে,
বিজাতি পাকিস্তানি হায়েনা
আর এ দেশীয়,
রাজাকার চক্রের বিরুদ্ধে,
সশস্ত্র সংগ্রামে বিজয়ী হয়ে,
স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর সৃষ্ট,
প্রতিটি বাঙালীর হৃদে লেখা,
মহাকাব্য,
মুক্তিযুদ্ধের চালিকাশক্তি হিসেবে,
মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
নতুন ক‘রে কখন স্বাধীনতার,
ঘোষণা হলো কি হলো না,
সেদিকে খেয়াল করবার,
সময় তখন বাঙালীদের ছিল না।
আর একটা ৭ই মার্চ,
আর একজন বঙ্গবন্ধু,
আর একটা বজ্রকন্ঠ,
আর একটা মহাকাব্য,
আর একটা জাতীয় ঐক্য,
আজ খুবই প্রয়োজন।
স্বাধীনতা রক্ষার জন্য।