বটবৃক্ষের তলে উপ্ত মরু তরু বা লতা যে বটবৃক্ষ হয়ে বৃদ্ধি পায় না, পেতে পারে না তা বোধকরি শিশুদের কাছেও বোধগম্য। মতাদর্শ, আচার-অনুষ্ঠান, ধর্মীয় প্রথা ও তেমন অঙ্গভঙ্গি, তদানুযায়ী পোশাকাদি, রুহানি বিষয়ে উৎকর্ষ লাভে তীর্থ ভ্রমণ, লগ্ন পালন, বিশেষ বিশেষ দিগমুখী হয়ে এবাদত পালন, বাহ্যিক শাসন, ঝাণ্ডা বহন মানুষের হৃদয়ের পরে যে কতোটা প্রভাব ফেরতে পারে তা পরীক্ষা সাপেক্ষ। আজকে যারা সন্ত্রসীকর্মে লিপ্ত তারা কোন ঝাণ্ডা বহন করে চলছে? তাদের ধর্মীয় পরিচয়ইবা কী? দেশের নিষ্ঠুরতম লোহমর্ষন খুনি, নারী নির্যাতক এরশাদ শিকদার কোন ধর্মের লোক তা জানা প্রয়োজন। হিটলারের ধর্ম কী ছিল? চণ্ডাশোক কে ছিল? ’৭১-এর ঘাতক দালালদের কোন ধর্মে বা এতোবাদের আওতায় গণনা করতে হবে? মানুষের কর্মকাণ্ড মানুষের ধর্ম পরিচয় বহন করে।
আমরা কথায় কথায় একজন আর একজনকে অতিসহজে জিজ্ঞেস করে বসি ধর্মপরিচয় বিষয়ে। কখনো কখনো এমন কিছু পরিচয় বহন করি যাতে সহজেই লোকে অনুমান করে নেয় আমাদের ধর্মপরিচয়। আসলে ধর্মপরিচয় কী বাহ্যিক পোশাক-আসাকের ব্যাপার? বৃক্ষের নাম তো তার ফলে প্রকাশ পাবার কথা। কে যে রাজ-প্রতিনিধি আর কে যে ত্রাসসম্রাট তা তাদের কর্মকাণ্ডে সাক্ষ্য দান করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা চমৎকার কথা বলেছেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, দলএতো নির্বিশেষে তাদের একটিই পরিচয় আর তা হলো তারা সন্ত্রাসী। বাহ্যিক পোশাক গৌণ, মানুষের চরিত্র হলো মুখ্য। বাহ্যিক একখানা নিশান মানুষের মনুষ্যত্ব বা নৈতিক উৎকর্ষ সাধন করতে যে অপারগ তার প্রমাণ বহন করে উপরোক্ত দৃষ্টান্তগুলো।
মানুষের চরিত্রের পরিবর্তনের পূর্বশর্ত হলো স্বীয় কৃতকর্মের প্রতি চেতনা ও অনুশোচনা। অনুশোচনা ক্রীয়াশীল ও ক্রীয়াহীন দুটোই হতে পারে। যেমন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেল, শরীরে রোগ রয়েছে। তবে এ জ্ঞান রোগ নির্মূলকল্পে যথেষ্ট হবার নয়। নিরাময় পেতে হলে ওষুধ সেবন অপরিহার্য। অনুশোচনা তদ্রুপহৃদয়, ভাবিয়ে তোলে, যা কর্ষিত ক্ষেত্রের তুল্য। কর্ষিত জমিতে অবশ্যই বীজ বপন করতে হবে কাক্সিক্ষত ফল পেতে হলে। একজন অনুতপ্ত অপরাধীর ক্ষেত্রে যা-কিছু করণীয় তা হলো সকল প্রকার অপরাধ সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা।
আলাহপাক হলেন মানবের বন্ধু। তিনি নিজ সুরতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে মহব্বত করে তিনি দান করেছেন অগণিত আশীর্বাদ। যে ব্যক্তি মানুষকে খুন করে, সে কি করে খোদার মনোনীত বান্দা হতে পারে? বোমা ফাটিয়ে নগর, জনপদ উড়িয়ে দেয়া আলাপাকের শেখানো অনুপ্রেরণা না-কি অভিশপ্ত শয়তানের কুমন্ত্রণা তা বিবেচনার জন্য জনতার আদালতে রেফার করা হলো।
বিশেষ কাজে দিনাজপুর গিয়েছিলাম। দেখতে পেলাম, বড় মাঠের কোল ঘেঁষে শহিদ মিনার নির্মাণাধীন অবস্থায়। মনে হলো উচ্চতায় কেন্দ্রিয় শহিদ মিনারের চেয়ে ছোট হবে না। পৌর চেয়ারম্যান জনাব সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন লাবু সাহেবের সাথে দেখা করলাম। ভদ্রলোক হৃদয়বান বটে। জেলার উন্নয়নমূলক কাজে গণসচেতনতা ও গণসম্পৃক্ততা যে অমোঘ সে বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সজাগ। বলতে বাধা নেই যে, তিনি সত্যিই সফলকাম জনপ্রতিনিধি।
শহিদ মিনারের সঠিক মাপজোখ পাবার আশায় গণপূর্ত অফিসে গেলাম। প্রধান প্রকৌশলী সাহেব ছাড়া আর কারো কাছে সঠিক তথ্য জানা সম্ভব নয়। খোঁজ নিয়ে দেখলাম, বেলা ৪ ঘটিকার সময় তিনি মধ্যহ্নভোজে অর্থাৎ লান্স ব্রেকে গিয়েছেন। শহিদ মিনারের সঠিক মাপজোখ জানার আগ্রহ এ যাত্রা শহিদ হয়ে গেল।
বাগানে বিষাক্ত বীজ রোপণ করে রসনা তৃপ্তিদায়ক ফলের আশা যেমন বোকামি তদ্রুপমানবতা বিধ্বংসী শক্তি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা মূল্যেৎপাটন না করা পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠার সকল প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হতে বাধ্য।
আসুন, দুষ্টের শাসন ও শিষ্টের পালন নীতি সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে সকলে আন্তরিক হই।