বিশ্বকাপ জেতার বছর ২০২২ সাল আলো ঝলমলে কাটালেও ২০২৩ সালে তেমন একটা ঝলক দেখাননি লিওনেল মেসি। তারচেয়ে বরং পারফরম্যান্সে এগিয়ে ছিলেন আর্লিং হালান্ড আর কিলিয়ান এমবাপে। তবে ভোটাভুটিতে তিনিই হলেন সেরা। আরও একবার ফিফা বর্ষসেরা পুরুষ ফুটবলারের স্বীকৃতি ‘দ্য বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছেন এই ফুটবল মহাতারকা। এই নিয়ে মেসি পুরস্কারটি জিতলেন অষ্টমবারের মতন, টানা জিতলেন দ্বিতীয়বার। গতপরশু রাতে রাতে লন্ডনে বিজয়ী হিসেবে মেসির নাম ঘোষণা করা হয়। মেসি যদিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। আর্জেন্টাইন জাদুকরের হয়ে পুরস্কারটি নেন অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকায় থাকা ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি।
গেল সেপ্টেম্বরে ১২ জনের তালিকা থেকে ডিসেম্বরে তিন জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করে ফিফা। এরপর ফিফা ওয়েবসাইটে জাতীয় দলের অধিনায়ক, কোচ ফুটবল সাংবাদিক ও সমর্থকদের ভোট নেওয়া হয়। এই ভোটাভুটিতে বাকি দুজনকে পেছনে ফেলেন মেসি। ২০২২–২৩ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে হালান্ড ছিলেন দুর্দান্ত। দলের ট্রেবল জেতায় বড় অবদান রাখেন এই তারকা। প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড ৩৬ গোলসহ বছরে গোল করেন ৫২টি। ফিফা জানিয়েছে, হালান্ডের সঙ্গে তীব্র লড়াই হয়েছে মেসির। ভোটাভুটিতে সমান ৪৮ স্কোরিং পয়েন্ট দুজনে পেলেও জাতীয় দলের অধিনায়কদের বেশিরভাগ ভোট পান মেসি। এই দুজনের পেছনে ৩৮ স্কোরিং পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হন এমবাপে। গত বছর পিএসজি ছেড়ে ইন্টার মায়ামিতে পাড়ি জমিয়েছেন মেসি। শীর্ষ লিগে তাকে আর দেখা না গেলেও ঠিকই সেরার আরেকটি পুরস্কার পেয়ে গেলেন।
তবে এই তিনজনই আছেন ফিফা বর্ষসেরা একাদশে। ২০২২ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এতে আধিপত্য ট্রেবলজয়ী ম্যানচেস্টার সিটির। ইউরোপ ও ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের ছয় জন জায়গা পেয়েছেন একাদশে। তিনজন আছেন রিয়াল মাদ্রিদের। তবে জায়গা হয়নি পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর।
৩–৩–৪ ফর্মেশনের একাদশে তিন ডিফেন্ডারই সিটির– স্টোন্স, কাইল ওয়াকার ও রুবেন দিয়াস। তিন মিডফিল্ডারের দুই জন কেভিন ডি ব্রুইনা ও বের্নার্দো সিলভাও তাদের ক্লাব সতীর্থ। অন্যজন রিয়ালে আলো ছড়ানো তরুণ ইংলিশ তারকা জুড বেলিংহ্যাম। চার ফরোয়ার্ডের একজন মেসি। অন্য তিনজন হলেন সিটির হয়ে রেকর্ডের পর রেকর্ড উপহার দেওয়া হলান্ড, পিএসজি সুপারস্টার এমবাপে ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র। দলটির গোলরক্ষকের ভূমিকায় রাখা হয়েছে রিয়ালের বেলজিয়ান তারকা থিবো কোর্তোয়াকে।
এদিকে, শিরোপা সংখ্যায় তার ধারেকাছে ছিলেন না কেউ। ভোটাভুটিতে প্রত্যাশিত সেই ফলই মিলেছে। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালের ফিফা বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন পেপ গার্দিওলা। গত মৌসুমে ইন্টার মিলানকে ইতালিয়ান কাপ, ইতালিয়ান সুপার কাপ জেতানো ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তোলা সিমোনে ইনজাগি এবং নাপোলিকে ৩৩ বছরের মধ্যে প্রথম সেরি আ জেতানো লুসিয়ানো স্পালেত্তিকে হারিয়েছেন গুয়ার্দিওলা।
তাতে অনন্য এক কীর্তি গড়েন গার্দিওলা; ইতিহাসের প্রথম কোচ হিসেবে দুইবার জেতেন ট্রেবল (ঘরোয়া লিগ ও কাপের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ)। প্রথমবার তিনি ট্রেবল জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন ২০০৯ সালে বার্সেলোনার হয়ে। দ্বিতীয়বারের মতো ফিফার বর্ষসেরা কোচ নির্বাচিত হলেন গার্দিওলা। প্রথমবার ২০১০ সালের সেরা কোচের পুরস্কার জিতেছিলেন এই স্প্যানিয়ার্ড; বার্সেলোনার ডাগআউটে থেকে।
মেয়েদের ফুটবলে অনুমিতভাবেই বর্ষসেরা হয়েছেন স্পেন ও বার্সেলোনার মিডফিল্ডার আইতানো বনমাতি। স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতায় বড় অবদান রাখায় তার জেতা অনেকটা নিশ্চিত ছিলো। আর নারী ফুটবলে বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার আবারও পেয়েছেন ইংল্যান্ড নারী দলের কোচ স্যারিনা ভিগমান। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় ও মোট চতুর্থবার সেরা নির্বাচিত হলেন তিনি। ২০১৭ সালে প্রথমবার জয়ের পর ২০২০ ও ২০২২ সালেও পুরস্কারটি জেতেন তিনি।