গেল বছর মেজর লিগ সকার থেকে আগে ভাগে বাদ পড়েছে তার দল ইন্টার মায়ামি। এর সঙ্গে রয়েছে তার চোট, বিশ্রাম, ছুটি সব মিলিয়ে বেশ লম্বা সময় ধরেই মাঠের বাইরে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে আর অপেক্ষা করতে হচ্ছে না তাকে চলতি মাসের শেষেই মায়ামির জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে নামতে দেখা যাবে তাকে। খেলবেন সৌদির দুই ক্লাবের বিপক্ষে। এই সফরের দ্বিতীয় ম্যাচে তার প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অর্থাত্ আরেকটি বার একই ম্যাচে মুখোমুখি লড়তে দেখা যাবে বর্তমান ফুটবলের দুই মহাতারকাকে।
চলতি মাসে প্রথম আন্তর্জাতিক সফরে বের হবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামি। এই সফরেই তারা সৌদি আরবে এসে তিন দলের একটি টুর্নামেন্ট খেলবে। ‘দা রিয়াদ সিজন কাপ’ নামের এই টুর্নামেন্টে তিন দল রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে মুখোমুখি হবে পরস্পরের। রিয়াদের কিংডম অ্যারেনায় ২৯ জানুয়ারি ইন্টার মায়ামি খেলবে আল হিলালের সঙ্গে। এই ক্লাবের হয়েই খেলেন নেইমার। তবে ব্রাজিলিয়ান তারকা এখন চোটের কারণে মাঠের বাইরে। এই ম্যাচের আগে তার ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ১ ফেব্রুয়ারি একই মাঠে মেসিদের প্রতিপক্ষ রোনালদোরা। দুটি ম্যাচই শুরু সৌদি আরব সময় রাত ৯টায়, অর্থাত্ বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায়।
এদিকে সৌদি আরবের এই টুর্নামেন্টটিতে অংশ গ্রহণ করতে আর তর সইছে না আট বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী লিওনাল মেসির। সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম আইডিতে পোস্ট করে এমনটি জানিয়েছেন তিনি। মেসি লেখেন, ‘আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না। রিয়াদ সিজনর কাপের মতো ঐতিহাসিক চ্যাম্পিয়নশিপে ইন্টার মায়ামির হয়ে সৌদির শীর্ষ ক্লাবগুেলোর মুখোমুখি হতে মুখিয়ে আছি।’
যদিও মেসির এই পোস্টটি প্রমোশনাল ছিল তবুও এই ম্যাচ দুটি যে দেখার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে তা বলাই যায়। বিশেষ করে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার ভক্তরা। কেননা এই ম্যাচ দিয়েই এক সঙ্গে অনেক দিন পর মাঠ মাতাতে দেখা যাবে সুয়ারেজ ও মেসিকে। এছাড়া আলাবা আর বুসকেটস তো রয়েছেই। মানে চার সাবেক বার্সার খেলোয়াড় আবার এক সঙ্গে মাঠে নামবেন। যদিও গত মৌসুম থেকেই আলাবা, বুসি এবং মেসি এক সঙ্গে খেলছেন। এছাড়া ফুটবল ভক্তরা একটা লম্বা সময় ধরে মাঠে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসি দ্বৈত লড়াই উপভোগ করে আসছিল। যা শুরু হয়েছিলে ২০০৭–০৮ মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে বার্সেলোনার ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাচ দিয়ে।
এরপর ২০০৯ সালে রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিলে এই দুই তারকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরো তীব্র হয়। স্প্যানিশ ফুটবলের শীর্ষ দুই দল লস ব্লাঙ্কোস ও বার্সা নিয়মিত মুখোমুখি ছিলেন তারা। বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়ের এই ফুটবলের একটি মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার অতিরিক্ত কৌতূহল প্রতিযোগিতাটিকে আরো রোমাঞ্চকর করে তুলেছিল।
তবে রোনালদো মাদ্রিদ ছাড়ার মাধ্যমে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হয়। এরপর হয়তো প্রতি বছরই কোনো না কোনোভাবে এই দুই ফুটবলারকে একে অপরের বিপক্ষে লড়তে দেখা যায়। যদিও বর্তমানে এই দুই ফুটবলারেরই ক্যারিয়ার প্রায় শেষ দিকে। তাই আসন্ন আল নাসর বনাম ইন্টার মিয়ামির ম্যাচটিকে শেষ বারের মতো দুই কিংবদন্তি একে অপরের বিপক্ষে লড়াইয়ের ম্যাচও ভাবা হচ্ছে। কারণ লিওনেল মেসির বয়স এখন ৩৬ এবং রোনালদোর বয়স ৩৯–এর কাছাকাছি।