‘নারী নির্যাতন’ শব্দটি হটকেকের মতো সমাজে যেভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তা সঠিক পর্যবেক্ষণ করা হলে দেখা যাবে, নূর বা পুরুষগণও ক্ষেত্র বিশেষে কম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে না। ধর্মীয় দিক থেকে বিষয়টিকে দেখা হলে, পুরুষই প্রথম নির্যাতিত হয়েছে নারীর হাতে, ছলাকলা প্রলোভন নানা কৌশলে বিবি হাওয়া হযরত আদম (আ.) কে অন্ধ বানিয়ে নিষিদ্ধ ফল খাওয়ালো, অর্থাৎ বাধ্য করলো খোদার আদেশ লঙ্ঘন করতে। মানবজাতির ওপর নেমে আসলো দুর্বিসহ যন্ত্রণা, আপনি আমি অদ্যবধি ভোগ করে যাচ্ছি সেই বিষের যন্ত্রণা। নর এবং নারী উভয় হলো আলাহপাকের সর্বোত্তম সৃষ্টি। আলাহপাক স্বীয় সুরতে প্রথমে আদমকে সৃষ্টি করেন, যেন তিনি মহান রাব্বুল আল-আমিনের যোগ্য প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। তাকে সৃষ্টি করে আলাহ ঐশী গুণাবলি দিয়ে যোগ্য করে তুললেন, দায়িত্ব, অধিকার ও ক্ষমতা দিলেন ন্যস্ত কর্তব্য পালন করার জন্য। অভিশপ্ত শয়তানের তা সহ্য হলো না, ফন্দি ফিকির আঁটতে শুরু করলো তাকে ব্যর্থ করার জন্য। আদমের পঞ্জর থেকে আলাহপাক সৃষ্টি করলেন পরমা সুন্দরী এক নারী, যা দেখে আদম (আ.) হয়ে গেলেন বিমোহিত। প্রকাশ থাকে যে, অভিশপ্ত শয়তানের কুপরামর্শে আদম ভুলে নাই, কিন্তু নারীই ধোকা খেয়েছে এবং নিজে পতিত হয়েছে ও স্বীয় সঙ্গী আদম (আ.) এর পতন ঘটিয়েছে।
পুরাতন কাঁসুন্দি নিয়ে এক্ষেত্রে আর ঘাটাঘাটি না করে বর্তমান নর-নারীর অবস্থান এক ঝলক দেখে নিই। নর-নারী উভয়েই পতিত। পাপের প্রভাব উভয়ের ধমনীতে বহমান। ভুতাশ্রিত মানুষ, মানুষের চেয়ে মেঠো সম্পদের মূল্য অধিক মনে করে, অথচ খোদার চোখে মানুষ হলো সর্বোত্তম। অভিশপ্ত শয়তান মানুষকে প্রলুব্ধ করে তিনটি ক্ষেত্রে, যার সবকটি হলো পার্থিব। যেমন, দেহের কামনা, চোকের লোভ এবং সাংসারিক বিষয়ের অহংকার। নর নির্যাতনের বর্ণনা নির্যাতিত ব্যক্তিরা সহজে বলতে চায় না। অবশ্য অবোধ পুরুষ যে দু’একজন নেই তা দাবী করা যাবে না, আবার অবিবেচক নারী যে দু’চার জন নেই তাও বা বলি কি করে। সত্যি কথা বলতে গেলে, মানুষ আজ বিপথগামী (চবৎাবৎঃবফ) হয়ে পড়েছে আর মানুষের মধ্যে নর ও নারী উভয়ই গণ্য। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে নিরপেক্ষ। একটি বিশেষ ক্ষেত্রের জন্য গোটা সমাজকে দোষী করা ঠিক হবে না। ভ্রান্ত ধারণার কারণে ‘মুখরোচক’ শব্দ দিয়ে সমাজটাকে জব্দ করা ঠিক হবে না। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে দেখা হরে, সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাবে, ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়েছে হেলেনের কারণে, আর সে হলেন একজন সনামধন্য নারী। আমি একদেশদর্শী দৃষ্টি নিয়ে নর-নারীর বিষয়ে রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইনি। তাই পাঠক আমাকে আবার নারী বিদ্বেষী ভাবেন না। আমি বিদুষী নারীর বিদ্বেষী নই। বরং অনেক নারী যে তার বিচিত্রময় রূপ সৌন্দর্য্যকে হাতিয়ার করে নরকে নিজের শাড়ীর মধ্যে করে রাখতে চায় সে কথাটি সমাজের মানুষ কেন যে দেখেও না দেখার ভান করে সে বিষয়ে বিজ্ঞ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অনেক ভুক্ত ভোগীরা আবার মাঝে মাঝে দাবি তোলেন যে, দেশের আইন আদালত নাকি সব এখন ওই নারীর পক্ষে। কারণ হিসেবে বলে সব পুরুষ বিচারকরা হয়তো একইভাবে গৃহে নারীর হাতে নির্যাতিত, নতুন নির্যাতন শিকার যাতে না হয়, সেই দিক খেয়াল রেখে ঘর থেকে শান্তি চুক্তি করেই বের হন। আর নিরুপায় পুরুষতো নারী কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে বিশেষ আইনে মামলা করতে পারে না। কারণ আমার দেশে নারী নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের প্রচলন থাকলেও আজো পর্যন্ত পুরুষ নির্যাতন দমন বিশেষ কোনো আইন পাশ হয়নি। তাই মানুষের করুণ অবস্থা দেখে চিত্তে সমবেদনা জাগে। আর তাই তো নিপিড়িত সব মানুষের মনের কথা গুলো বিবেচকের মতো তুলে ধরতে হলো। নর-নারী নিঃসন্দেহে উভয় সমান, সবার অংগ প্রত্যঙ্গে একই রক্ত বহমান। নর ও নারী মিলে মানব সমাজ ও মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছে। প্রত্যেকের জন্য প্রত্যেকের প্রয়োজন রয়েছেÑ ‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি…’ একথাটি লিখেছেন একজন পুরুষ। নারীর মর্যাদা দিয়েছেন একজন পুরুষ। নারী বিভ্রান্ত হয়েছে অভিশপ্ত মন্ত্রে। আবার তাকে ক্ষমা করেছেন একজন পুরুষের চূড়ান্ত মূল্যে। আমি এক্ষেত্রে বিশেষ কেস স্ট্যাডি করতে আগ্রহী নই। তবে যদি প্রয়োজন পড়ে তখন আপত্তি করবো না। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, পুরুষের আপরিনামদর্শী প্রশ্রয়দানের জন্যই নারীরা বখাটে হয়ে পড়ে; বিষয়টি শতঃসিদ্ধ।
যদি আন্দোলন গড়ে তুলতে হয়, তবে তা হবে নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন। ক্ষেত্র বিশেষ তদন্ত করে দেখতে হবে কে কার ওপর শারীরিক, মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে। ঢালাওভাবে ফলাউ করে বলা যাবে না, যে কেবল নারীগণ নির্যাতিত হচ্ছে, তেমন দাবি হবে পুরুষ নির্যাতনের সামিল। আসুন না নর এবং নারী যাতে নির্যাতিত না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করি, সবকিছু ভারসাম্য বজায় রেখে সমস্যার সমাধান কল্পে সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করি এবং একটি সুখী সমৃদ্ধশালী সমাজ ব্যবস্থা উপহার দেই প্রজন্মের হাতে।
লোকে কথায় কথায় বলে বসে, কম্প্রোমাইজ ছাড়া সংসার চলে না, আমিও এ মন্তব্যে বিরোধীতা করি না, তবে একটা প্রশ্ন আছে, আর তা হলো কম্প্রোমাইজ করবো কার সাথে। পূর্ব-পশ্চিম যেমন কম্প্রোমাইজ সম্ভব নয়, তদ্রুপউত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরুর সাথে কম্প্রোমাইজের প্রচেষ্টা হবে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রচেষ্টা। ঐশী পুরুষ পতিত বিশ্বটাকে খোদার হাতে ফিরিয়ে দেবার জন্য এক চূড়ান্ত মাশুল পরিশোধ করেছেন নিজের প্রাণের মূল্যে, তাই বলে পাপের শক্তির কাছে বিন্দুমাত্র কম্প্রোমাইজ করেন নি কষ্মিনকালেও। তিনি পিতরের মতো নিবেদিত ব্যক্তিকে কার্পণ্য করেননি, তার ভুল সিদ্ধান্তের মনোভাব দেখে তিনি তিনি তাকেও বলেছিলেন, দুর হও শয়তান। ঐশী বিষয়ে গুরুত্তারোপ না করে পার্থিব বিষয়টাকে প্রাধান্য দেবার কারণে। আমাদের জেনে নিতে হবে প্রাধিকারের বিষয়টিকে। প্রথমে খোদার রাজ্য ও তাঁর ধার্মিকতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবে আমরা পার্থিব সম্পদের চেয়ে মানুষকে অধিক মহব্বত করতে পারব, আর তাই হবে ঐশী দায়িত্ব। দেখা ভাইকে মহব্বত করতে ব্যর্থ হলে অদেখা খোদাকে মহব্বত করা যায় কি করে!
পুরাতন কাঁসুন্দি নিয়ে এক্ষেত্রে আর ঘাটাঘাটি না করে বর্তমান নর-নারীর অবস্থান এক ঝলক দেখে নিই। নর-নারী উভয়েই পতিত। পাপের প্রভাব উভয়ের ধমনীতে বহমান। ভুতাশ্রিত মানুষ, মানুষের চেয়ে মেঠো সম্পদের মূল্য অধিক মনে করে, অথচ খোদার চোখে মানুষ হলো সর্বোত্তম। অভিশপ্ত শয়তান মানুষকে প্রলুব্ধ করে তিনটি ক্ষেত্রে, যার সবকটি হলো পার্থিব। যেমন, দেহের কামনা, চোকের লোভ এবং সাংসারিক বিষয়ের অহংকার। নর নির্যাতনের বর্ণনা নির্যাতিত ব্যক্তিরা সহজে বলতে চায় না। অবশ্য অবোধ পুরুষ যে দু’একজন নেই তা দাবী করা যাবে না, আবার অবিবেচক নারী যে দু’চার জন নেই তাও বা বলি কি করে। সত্যি কথা বলতে গেলে, মানুষ আজ বিপথগামী (চবৎাবৎঃবফ) হয়ে পড়েছে আর মানুষের মধ্যে নর ও নারী উভয়ই গণ্য। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে নিরপেক্ষ। একটি বিশেষ ক্ষেত্রের জন্য গোটা সমাজকে দোষী করা ঠিক হবে না। ভ্রান্ত ধারণার কারণে ‘মুখরোচক’ শব্দ দিয়ে সমাজটাকে জব্দ করা ঠিক হবে না। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে দেখা হরে, সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাবে, ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়েছে হেলেনের কারণে, আর সে হলেন একজন সনামধন্য নারী। আমি একদেশদর্শী দৃষ্টি নিয়ে নর-নারীর বিষয়ে রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইনি। তাই পাঠক আমাকে আবার নারী বিদ্বেষী ভাবেন না। আমি বিদুষী নারীর বিদ্বেষী নই। বরং অনেক নারী যে তার বিচিত্রময় রূপ সৌন্দর্য্যকে হাতিয়ার করে নরকে নিজের শাড়ীর মধ্যে করে রাখতে চায় সে কথাটি সমাজের মানুষ কেন যে দেখেও না দেখার ভান করে সে বিষয়ে বিজ্ঞ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অনেক ভুক্ত ভোগীরা আবার মাঝে মাঝে দাবি তোলেন যে, দেশের আইন আদালত নাকি সব এখন ওই নারীর পক্ষে। কারণ হিসেবে বলে সব পুরুষ বিচারকরা হয়তো একইভাবে গৃহে নারীর হাতে নির্যাতিত, নতুন নির্যাতন শিকার যাতে না হয়, সেই দিক খেয়াল রেখে ঘর থেকে শান্তি চুক্তি করেই বের হন। আর নিরুপায় পুরুষতো নারী কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে বিশেষ আইনে মামলা করতে পারে না। কারণ আমার দেশে নারী নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের প্রচলন থাকলেও আজো পর্যন্ত পুরুষ নির্যাতন দমন বিশেষ কোনো আইন পাশ হয়নি। তাই মানুষের করুণ অবস্থা দেখে চিত্তে সমবেদনা জাগে। আর তাই তো নিপিড়িত সব মানুষের মনের কথা গুলো বিবেচকের মতো তুলে ধরতে হলো। নর-নারী নিঃসন্দেহে উভয় সমান, সবার অংগ প্রত্যঙ্গে একই রক্ত বহমান। নর ও নারী মিলে মানব সমাজ ও মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছে। প্রত্যেকের জন্য প্রত্যেকের প্রয়োজন রয়েছেÑ ‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি…’ একথাটি লিখেছেন একজন পুরুষ। নারীর মর্যাদা দিয়েছেন একজন পুরুষ। নারী বিভ্রান্ত হয়েছে অভিশপ্ত মন্ত্রে। আবার তাকে ক্ষমা করেছেন একজন পুরুষের চূড়ান্ত মূল্যে। আমি এক্ষেত্রে বিশেষ কেস স্ট্যাডি করতে আগ্রহী নই। তবে যদি প্রয়োজন পড়ে তখন আপত্তি করবো না। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, পুরুষের আপরিনামদর্শী প্রশ্রয়দানের জন্যই নারীরা বখাটে হয়ে পড়ে; বিষয়টি শতঃসিদ্ধ।
যদি আন্দোলন গড়ে তুলতে হয়, তবে তা হবে নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন। ক্ষেত্র বিশেষ তদন্ত করে দেখতে হবে কে কার ওপর শারীরিক, মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে। ঢালাওভাবে ফলাউ করে বলা যাবে না, যে কেবল নারীগণ নির্যাতিত হচ্ছে, তেমন দাবি হবে পুরুষ নির্যাতনের সামিল। আসুন না নর এবং নারী যাতে নির্যাতিত না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করি, সবকিছু ভারসাম্য বজায় রেখে সমস্যার সমাধান কল্পে সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করি এবং একটি সুখী সমৃদ্ধশালী সমাজ ব্যবস্থা উপহার দেই প্রজন্মের হাতে।
লোকে কথায় কথায় বলে বসে, কম্প্রোমাইজ ছাড়া সংসার চলে না, আমিও এ মন্তব্যে বিরোধীতা করি না, তবে একটা প্রশ্ন আছে, আর তা হলো কম্প্রোমাইজ করবো কার সাথে। পূর্ব-পশ্চিম যেমন কম্প্রোমাইজ সম্ভব নয়, তদ্রুপউত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরুর সাথে কম্প্রোমাইজের প্রচেষ্টা হবে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রচেষ্টা। ঐশী পুরুষ পতিত বিশ্বটাকে খোদার হাতে ফিরিয়ে দেবার জন্য এক চূড়ান্ত মাশুল পরিশোধ করেছেন নিজের প্রাণের মূল্যে, তাই বলে পাপের শক্তির কাছে বিন্দুমাত্র কম্প্রোমাইজ করেন নি কষ্মিনকালেও। তিনি পিতরের মতো নিবেদিত ব্যক্তিকে কার্পণ্য করেননি, তার ভুল সিদ্ধান্তের মনোভাব দেখে তিনি তিনি তাকেও বলেছিলেন, দুর হও শয়তান। ঐশী বিষয়ে গুরুত্তারোপ না করে পার্থিব বিষয়টাকে প্রাধান্য দেবার কারণে। আমাদের জেনে নিতে হবে প্রাধিকারের বিষয়টিকে। প্রথমে খোদার রাজ্য ও তাঁর ধার্মিকতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবে আমরা পার্থিব সম্পদের চেয়ে মানুষকে অধিক মহব্বত করতে পারব, আর তাই হবে ঐশী দায়িত্ব। দেখা ভাইকে মহব্বত করতে ব্যর্থ হলে অদেখা খোদাকে মহব্বত করা যায় কি করে!