গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের হাতে এখনো কয়েক হাজার ‘ওয়ান–ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোন এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ মিসাইল রয়েছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহার করা সম্ভব। এসব অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর সক্ষমতা রাখে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক এবং গুহায় অস্ত্র সংরক্ষণের কৌশলই ইরানকে এই সক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা পাঁচ সপ্তাহের বিমান হামলার মধ্যেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে। সিএনএন–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপক হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক এখনো কার্যকর রয়েছে এবং তাদের ড্রোন ভাণ্ডারের বড় অংশ অক্ষত আছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ ক্ষমতা প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
তবে গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল এবং আংশিকভাবে ভিন্ন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইরানের ১২ হাজার ৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে শীর্ষ নেতা আলী খামেনি এবং আলী লারিজানি–এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিহত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে। পেন্টাগনের দাবি, যুদ্ধ শুরুর তুলনায় ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলার পরিমাণ প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হামলা কমে যাওয়া মানেই অস্ত্রভাণ্ডার শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং ইরান কৌশলগতভাবে তাদের অবশিষ্ট শক্তি সংরক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখছে। নৌ–সামরিক শক্তির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। যদিও হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবুও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর হাতে এখনো শত শত ছোট নৌযান এবং ড্রোনবাহী জাহাজ রয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে সামরিকভাবে চাপে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আসা ছাড়া তাদের সামনে কার্যত বিকল্প নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। তবে অনেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই সময়সীমাকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন না। তাদের মতে, ইরানের মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।



