নতুন বছরে এখনো মাঠে নামেনি বাংলাদেশ দল। আর শেষ ওয়ানডে খেলেছিল আরো মাস দুয়েক আগে, গত বছরের অক্টোবরে। সব মিলিয়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেটের সাথে দুরত্ব বেড়েছে বেশ। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারো ওয়ানডে ক্রিকেটের ব্যস্ততায় ফিরছে বাংলাদেশ দল। ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো খেলতে নামছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। যেখানে প্রথম প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ঢাকায় এসেছে পাকিস্তান দল। মিরপুরে আজ বুধবার গড়াবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। খেলা শুরু দুপুর সোয়া ২টায়। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান খুব বেশি আশাব্যঞ্জক নয়।
এখন পর্যন্ত দু’দল খেলেছে ৩৯টি ওয়ানডে। এর মাঝে জয় মাত্র পাঁচটি, আর বাকি ৩৪ ম্যাচেই হেরেছে টাইগাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবশেষ জয়টি এসেছিল ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে, এশিয়া কাপের এক ম্যাচে। সময়ের হিসাবে সেটি প্রায় ৮৯ মাস বা সাড়ে সাত বছর আগের ঘটনা। মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে সেই জয়ের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে আরো তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বড় মঞ্চের সেই তিন ম্যাচেই হারতে হয়েছে টাইগারদের। দু’দলের সবশেষ দেখা হয়েছিল ২০২৩ বিশ্বকাপে, ভারতের মাটিতে। সেই ম্যাচে ৭ উইকেটে হেরেছিল টাইগাররা।
তার প্রায় তিন বছর পর আবারো পাকিস্তানের সাথে ওয়ানডে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের এই সিরিজের সবগুলো খেলাই হবে মিরপুরে। ফলে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের জয়খরা কাটানোর সুযোগ পাচ্ছে স্বাগতিকরা। আর সিরিজ জিততে পারলে তো কথাই নেই, সেটি হবে আরো বড় সাফল্য। পাকিস্তানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত মাত্র একবারই ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ, সেটাও ২০১৫ সালে। এবার যদি সিরিজ জিতে, তাহলে সেটি হবে এক দশক পর নতুন ইতিহাস। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। একইসাথে সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জও। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে এই সিরিজটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
সিরিজটি জিততে পারলে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়া সহজ হবে টাইগারদের জন্য। বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে বাংলাদেশকে থাকতে হবে র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরের ভেতর। যেখানে বাংলাদেশ এখন আছে ১০ নম্বরে। যদিও ঘরে–বাইরে মিলিয়ে এখনো ম্যাচ আছে ২২টি। তবে শেষ দু’বছরে ওয়ানডেতে সময়টা ভালো যাচ্ছে না টাইগারদের। শেষ ৩৫ ম্যাচে মাত্র ৯ জয়ের বিপরীতে হার ২৫ ম্যাচে। অন্য ম্যাচটা পরিত্যক্ত হয়। আর শেষ ৬ সিরিজের ৪ টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে পাকিস্তান সিরিজে বেশ কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে টাইগারদের। বেশ লড়াই করেই সাফল্য পেতে হবে। তবে তার জন্য সেরাটা দিতে হবে ব্যাটিং–বোলিং দুই বিভাগেই।



