মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত সমাপ্তি চাইছেন। তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে রাজনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কায়, তার উপদেষ্টা দল গোপনে ‘যুদ্ধ থেকে বেরোনোর পরিকল্পনা’ খুঁজছে। ট্রাম্প সোমবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বলেন, সামরিক অভিযানের লক্ষ্যগুলোর বেশির ভাগই অর্জিত হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এই যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে।” তবে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। উপদেষ্টারা প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিয়েছেন, যতক্ষণ তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলা চালাবে এবং ইসরায়েল ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে চাইবে, ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যুদ্ধ থেকে সহজে সরে আসা কঠিন। ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু দেশের ওপর থেকে তেল–সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে।
এছাড়া, এই অঞ্চলে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঝুঁকি বিমার ব্যবস্থা করবে এবং প্রয়োজনে নৌবাহিনী বা মিত্রদের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে। প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, তিনি এই যুদ্ধে সন্তোষজনক বিজয় দাবি করতে চাইছেন। তবে তেহরান কেন নতি স্বীকার করছে না, তা দেখে তিনি কখনো কখনো বিস্মিতও হয়েছেন। সোমবার ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরা এমন ব্যবস্থা চাই যা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বয়ে আনবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে এখনই যুদ্ধের ইতি টানা উচিত।” তেহরানের সর্বোচ্চ নেতা পরিবর্তনের খবর এবং নতুন নেতৃত্বের নিয়োগ নিয়ে ট্রাম্প কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন। উভয় পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একযোগে লক্ষ্যমাত্রা ধ্বংস করছে, যার মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের লক্ষ্য প্রধান।
এর বিপরীতে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩৬ হাজারেরও বেশি নাগরিক দেশে ফিরে এসেছেন। এছাড়া, সাতজন সেনা নিহত এবং আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করেন, জনমত জরিপের তথ্য অনুযায়ী বেশিরভাগ আমেরিকান এই যুদ্ধে বিরোধী। যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী হলে ট্রাম্পের সমর্থন কমতে পারে—এই আশঙ্কা নিয়েই উপদেষ্টা দল তাকে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে উৎসাহিত করছে।



