হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে শুষ্ক মৌসুমে বিভিন্ন খালে পানি থাকে না। ফলে উপজেলার ৮নং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার প্রায় এক হাজার বিঘা জমি পড়ে থাকে অনাবাদি। প্রায় এক যুগ ধরে এভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষককে। ডিজেলচালিত সেচে কিছু জমি চাষ হলেও অধিকাংশ কৃষককে বাড়তি খরচ দিতে গিয়ে গুনতে হয় লোকসান। স্থানীয় কৃষকের দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ওই এলাকায় একটি সেচ পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। তখন কৃষকের মনে আশার আলো জেগেছিল। কিন্তু মাঠে ধানের চারা রোপণের পরই দেখা দেয় নতুন সংকট। অভিযোগ উঠেছে, সেচ পাম্পের জন্য মোটর ও বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে সরকারি বরাদ্দের টাকাই কৃষকদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে। কোথাও ‘আবেদন ফি’ কোথাও ‘সংযোগ ফি’র নামে টাকা আদায় করা হচ্ছে। শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ জিয়া খালটি ধীরে ধীরে পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। এই খালের আশপাশে চারটি বিলের প্রায় এক হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করে কৃষক। কিন্তু বিএডিসি’র সেচ প্রকল্প থেকে মোটর ও পল্লী বিদ্যুৎ থেকে মিটার না পাওয়ায় চাষাবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই পাশের চুনারুঘাট উপজেলা থেকে একটি পুরোনো সেচ প্রকল্পের মোটর এনে দেয়া হয় সোনাতলা গ্রামের কৃষক আব্দুর নূর মিয়াকে। তার অভিযোগ, ওই মোটরের পুরোনো বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ বাবদ তার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অথচ এই খরচ বিএডিসি কর্তৃপক্ষের দেয়ার কথা। সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করেছিলেন মো. সাবেদ মিয়া। কিন্তু সেচের মৌসুম শেষ হতে চললেও পাম্প বসানোর কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে প্রতিটি স্বাক্ষরের মূল্য হিসেবে দিতে হয় ৯ হাজার টাকা। আবেদন করলে দিতে হয় চার হাজার টাকা। চাইলেই কোনো কৃষক জোনাল ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। সংশ্লিষ্ট এলাকার দালাল বা ইলেকট্রিশিয়ানদের মাধ্যমে দেখা করতে দিতে হয় উৎকোচ। সরজমিন দেখা গেছে, সোনাতলা গ্রামের পাশে চারটি বিলে প্রায় এক হাজার বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে অধিকাংশ চারা লালচে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আরও দুই–আড়াইশ’ বিঘা জমি পানির অভাবে আবাদই করা যায়নি। কৃষক সুহেল মিয়া ১০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছেন। এজন্য সুদের ওপর নিতে হয়েছে এক লাখ টাকা। তিনি বলেন, পানির অভাবে পুরা জমি মইরা যাইতেছে। ধানের অবস্থা দেখলে মনডা খারাপ হইয়া যায়। যদি জমিতে পানি দিতেই না পারি তাইলে ক্ষেতে ধান হইব না। বক্তব্য জানতে টেকনিশিয়ান সফিক মিয়া মোবাইল ফোনে কল দিলেও ধরেননি। আমার অফিসের কেউ অনিয়ম–দুর্নীতিতে জড়িত না। সেচ প্রকল্পে মিটার স্থাপনের জন্য তিনি বা অফিসের কেউ টাকা নেননি। তাই কৃষকের সম্মতিতেই পুরোনো মোটর ও নিজ খরচে মিটার সংযোগ পেতে রাজি হন এ জন্য পুরোনো মোটরের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ২০ হাজার ও নতুন মিটার বাবদ ৫৭ হাজার টাকা দিয়েছেন। আমাদের বরাদ্দ থাকলে সরকারিভাবে সব সরবরাহ করা হতো। ইউএনও মো. নাহিদ হোসাইন বলেন, কৃষক ও কৃষি নিয়ে কেউ কোনো অনিয়ম করলে তা সহ্য করা হবে না। মাঠের ফসল বাঁচাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে মিটার স্থাপনে ব্যবস্থা নেবেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দেন।



