নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ডা: মজিবর রহমান (৭১) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। শনিবার তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার সোনাপাতিল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। জানা গেছে, বহু বছর ধরে তিনি নলডাঙ্গা এলাকায় সুনামের সাথে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য স্বল্প খরচে কিংবা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়ার কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৪ সাল থেকে গত এক বছর আগ পর্যন্ত কয়েক লাখ মা ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। তার রেখে যাওয়া রেজিস্টারই কর্মজীবনের নীরব সাক্ষী।
সরকারি টিকাদান কর্মসূচির সাথেও স্বেচ্ছায় যুক্ত থেকে বছরের পর বছর সেবা দিয়েছেন। নলডাঙ্গা উপজেলা, আত্রাই উপজেলা, বাগমারা উপজেলা, সিংড়া উপজেলা, পুঠিয়া উপজেলা বিভিন্ন এলাকা থেকে মা ও শিশুরা ছুটে আসতেন তার কাছে। গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য তিনি ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক। তার প্রতি মানুষের আস্থা ছিল অটুট। কারণ তিনি শুধু চিকিৎসা দিতেন না, দিতেন সাহস, আশ্বাস আর মানবিকতা। একদিকে মানবসেবা, অন্যদিকে স্থানীয় মসজিদের দায়িত্ব পালন– দুটোকেই তিনি সমান নিষ্ঠায় বহন করেছেন। অসংখ্য গান, কবিতা লিখেছেন, ছোটগল্প রচনা করেছেন, সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলেন, বৃক্ষরোপণ করেছেন।
একজন মানুষ কত দিক দিয়ে সমাজকে সমৃদ্ধ করতে পারেন, তিনি তার উদাহরণ। তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। অথচ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চাননি। তিনি বলতেন, ‘যুদ্ধ করেছি দেশের জন্য কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয়।’ দীর্ঘ সময় তিনি নলডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সাথে তার ছিল আন্তরিক সম্পর্ক। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।



