যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকিতে দমে যায়নি ইরান। দেশটি আগে থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো আরও শক্তিশালী করেছে তেহরান। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের পক্ষ থেকে চুক্তির জন্য ১০–১৫ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এই হুমকির মধ্যেই একই দিন ইরান রাশিয়ার সঙ্গে বার্ষিক মহড়া সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরীও মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি এসেছে। পারমাণবিক কর্মসূচির আলোচনা ব্যর্থ হলেই হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। ইরানও যুদ্ধের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত রয়েছে। শুক্রবার বিবিসির প্রতিবেদনে ইরানের এই যুদ্ধ প্রস্তুতির ব্যাপারে তথ্য জানানো হয়। আলজাজিরা জানায়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বৃহস্পতিবার লেখা এক চিঠিতে ইরান বলেছে, তারা উত্তেজনা বা যুদ্ধ চায় না এবং যুদ্ধ শুরুও করবে না।
যে কোনো মার্কিন আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে। চিঠিতে বলা হয়, যে কোনো অপ্রত্যাশিত এবং অনিয়ন্ত্রিত পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ এবং সরাসরি দায়বদ্ধ থাকবে। এপি লিখেছে, ট্রাম্প ওয়াশিংটনে শান্তি পর্ষদের বৈঠকে বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরানের একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন ‘যথেষ্ট সময়’। কিন্তু আলোচনা বছরের পর বছর ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে এবং ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কমিয়ে আনা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনায় খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। এই অবস্থায় উভয় পক্ষই যুদ্ধের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে। মঙ্গলবার জেনেভায় ইরান ও মার্কিন আলোচকরা সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে পরোক্ষ আলোচনা করলেও স্পষ্ট সমাধান ছাড়াই তা শেষ হয়েছে। ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, উভয় পক্ষই ‘নির্দেশিকা নীতি’ নিয়ে একমত। তবে জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান ‘রেড লাইন’ স্বীকার করেনি।
ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির দ্বিধা স্পষ্ট
ইরানের ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে দ্বিধা সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভবত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থার চেয়ে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব এর আগে হয়নি। এখন যে কোনো সময় ইরানে অভিযান পরিচালনা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন নাগরিকরা ট্রাম্পের অভিবাসন ও অর্থনীতির মতো বিষয়গুলো নিয়ে ক্রমবর্ধমানভাবে হতাশ। ট্রাম্প এমন এক দ্বিধায় পড়েছেন, একদিকে তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি, অন্যদিকে বিশ্ব রাজনীতির বাস্তব চাপ।
ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য
বিবিসি জানায়, এর আগে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি ও ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসকে হস্তান্তর ও সেখানে থাকা যুক্তরাজ্য–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটি লিজ নেওয়ার চুক্তি করেছিলেন কিয়ার স্টারমার। কিন্তু যুক্তরাজ্য ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর চটেছেন ট্রাম্প।
ইরানের আকাশসীমার বড় অংশ হঠাৎ বন্ধ
ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বুধবার পাইলটদের কাছে একটি অস্বাভাবিক সরকারি নোটিশ জারি করে। তাতে দেশের আকাশসীমার বৃহৎ অংশ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।



